Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কনকনে ঠান্ডায় রবিশস্যের ভালো ফলনের আশা

কনকনে ঠান্ডায় রবিশস্যের ভালো ফলনের আশা
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: এক ধাক্কায় পারদ অনেকটাই নেমে গিয়েছে। কনকনে ঠান্ডা পড়ায় মরশুমি ফসলের ভালো ফলনের আশায় চাষিরা। এবছর কম বৃষ্টির কারণে তাঁদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল। এখন রবি মরশুমে ডালশস্য, সরষে ও গম চাষে ঠান্ডা আবহাওয়া খুব দরকার বলে তাঁরা জানিয়েছেন। করিমপুরের চাষি উত্তম মণ্ডল বলেন, মূলত অগ্রহায়ণ মাসে রবিশস্য চাষ শুরু হয়ে যায়। প্রায় দু’মাস আগেই সরষে, ডালশস্য ও গমের বীজ বপন শেষ হয়ে গিয়েছে। বৃষ্টির অভাবে এবছর সব্জি ও অন্য চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জুন মাসের ঝড়ে কলা এবং নানা সব্জি জমিতেই নষ্ট হয়েছে। তার পরে আবার বেশি বৃষ্টির কারণে জমি চাষের উপযুক্ত হতে দেরি হয়েছে। এখন আমরা রবি ফসলের ভালো ফলনের দিকে তাকিয়ে আছি। অপর চাষি আলাহিম মণ্ডল বলেন, ঝলসা রোগের কারণে টানা তিনবছর দুই জেলায় গম চাষ বন্ধ ছিল। তারপর থেকে আবার গম চাষ শুরু হয়েছে। এবছর বেশি শীত পড়লে গমের উৎপাদন ভালো হবে আশা করছি। কপি, পালং, বেগুন, লঙ্কার মত বিভিন্ন সব্জির উৎপাদন ভালো হওয়ায় এখন বাজারে আমদানি বেড়েছে। ফলে দাম কমে গিয়েছে। তবে তেহট্ট মহকুমার বার্নিয়া, নাজিরপুর, গড়াইমারি, কাঠালিয়া ও গোয়াস এলাকায় অর্থকারী ফসল হিসেবে পেঁয়াজ ও রসুন চাষ ব্যাপক হারে শুরু হয়েছে। অগ্রহায়ণের শুরুতেই ঠান্ডা পড়ায় পেঁয়াজ ও রসুন চাষিরাও অনেকটা স্বস্তিতে আছেন। স্থানীয় চাষি সুদর্শন বিশ্বাস বলেন, এবার বছরের শুরু থেকেই আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় ভুগতে হয়েছে। দেরিতে বৃষ্টির জেরে মাঠে রবি ফসল রোপণ করতে দেরি হয়েছে। তবে এবার প্রথম থেকেই বেশ ঠান্ডা পড়ায় ফলন ভালো হবে বলেই মনে করছি।
Advertisement
গোয়াস গ্রামের চাষি  জামরুল মণ্ডল বলেন, ঠান্ডা পড়ায় পেঁয়াজগাছ খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠবে। এসময় গরম পড়লে পেঁয়াজগাছে নানা রোগ দেখা দেয়। পেঁয়াজ পাতা কুঁকড়ে হলুদ হয়ে যায়। তখন কোনওপ্রকার কীটনাশক স্প্রে করেও ফল পাওয়া যায় না। কিন্তু ঠান্ডা থাকলে গাছ রোগগ্রস্ত হবে না। ফলনও বেশ ভালো হবে। রসুনের জমিতে গাছ বের হওয়ার পর তিন-চারমাস যত ঠান্ডা পড়বে ও রসুন রোদ পাবে, ততই ভালো হবে। হোগলবেড়িয়ার সব্জি চাষি অমর মণ্ডল বলেন, কয়েকদিনের ঠান্ডায় বেগুন চাষে পোকামাকড়ের আক্রমণ ও কীটনাশকের খরচ অনেকটাই কমে গিয়েছে। দু’সপ্তাহ আগেও বেগুনের পোকা দমনে রোজ কীটনাশক স্প্রে করতে হতো। এখন সেখানে সপ্তাহে দু’দিন দিলে পোকামাকড়ের উপদ্রব থাকছে না।
সম্পর্কিত সংবাদ