Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ইডেনে দাপুটে ‘প্রত্যাবর্তন’ নাইটদের

মাঝরাতে সূর্যোদয় নয়, ক্রিকেটের নন্দনকাননে নিজামের শহরের সূর্যাস্ত।

ইডেনে দাপুটে ‘প্রত্যাবর্তন’ নাইটদের
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: মাঝরাতে সূর্যোদয় নয়, ক্রিকেটের নন্দনকাননে নিজামের শহরের সূর্যাস্ত। কে জানত, স্বমহিমায় ফেরার জন্য গতবারের চ্যাম্পিয়নরা হায়দরাবাদ ম্যাচকেই বেছে নেবেন। লক্ষ্মীবারে প্যাট কামিন্স বাহিনীকে ৮০ রানের বড়সড় ব্যবধানে রীতিমতো কানমলা দিয়ে হারালেন অজিঙ্ক রাহানেরা। একইসঙ্গে পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠল কলকাতা নাইট রাইডার্স। চার ম্যাচে বেগুনি ব্রিগেডের পয়েন্ট ৪। আতসবাজির মায়াবি আলোয় বেগুনি পতাকার ওড়াউড়ির মধ্যেই গ্যালারি মাতল ‘করব, লড়ব রে, জিতব রে’ সুরে। 
২০১ রানের টার্গেট তাড়া করতে হলে ঝড় তুলতেই হতো হায়দরাবাদের দুই ওপেনারকে। কিন্তু ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নামা ডেঞ্জারম্যান ট্রাভিস হেড দু’বলের বেশি টিকতে ব্যর্থ। অভিষেক শর্মার মেয়াদও ছিল ছয় বল। মারকুটে ঈশান কিষানের ক্ষেত্রে সেটা আরও এক বল কম। অর্থাৎ, ট্রাভিস, অভিষেক, ঈশান— সানরাইজার্সের তিন ভরসাই ফিরলেন দলীয় ৯ রানের মধ্যে। কার্যত, ওখানেই মুখ থুবড়ে পড়ে সূর্যোদয়ের স্বপ্ন। নাইটদের ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার বৈভব অরোরা আর হর্ষিত রানা ভাঙন ধরান। আন্দ্রে রাসেলের বলে ক্যাচ তোলেন নীতীশ রেড্ডি। স্কোর তখন ৪৪-৪। এরপর ম্যাচে পড়ে ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। ক্রমশ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সানরাইজার্স!
চলতি আসরে এদিনই প্রথমবার শাহরুখের ফ্র্যাঞ্চাইজিকে অপ্রতিরোধ্য লাগল। তিন ম্যাচের দুটোতে পরাজয়ের পর যাবতীয় সংশয় আর উদ্বেগকে হেলায় উড়িয়ে দাপুটে প্রত্যাবর্তন ঘটালেন নাইটরা। শিশির পড়লেও বোলারদের লাইন-লেংথ ও পরিকল্পনা তালগোল পাকিয়ে গেল না। বরুণ চক্রবর্তী তো হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন। অন্যদিকে, এবারের আসরে প্রথমবার এল দুশোর স্বস্তি। সেটাও টস হেরে ব্যাট করতে নেমে। এবং আড়াই ওভারের মধ্যে দুই ওপেনার আউট হওয়া সত্ত্বেও! সেখান থেকে অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর সঙ্গে রাহানের জুটি চাপ কাটাল। নাইট ক্যাপ্টেন ছিলেন দুর্ধর্ষ ছন্দে। কামিন্সকে পুলে মারা ছক্কাগুলো সত্যিই অনবদ্য। রঘুবংশীও পাল্লা দিলেন রকমারি স্ট্রোকে। তবে জিশান আনসারিকে অহেতুক রিভার্স সুইপ মারতে গিয়ে ফেরেন রাহানে। ৩২ বলে হাফ-সেঞ্চুরির পরই আউট রঘুবংশীও। নাইটদের ইনিংসের নায়ক অবশ্য বেঙ্কটেশ আয়ার। প্রায় ২৪ কোটির ক্রিকেটারের এদিনের ২৯ বলে ৬০ রান যেন দমবন্ধকরা আবহ থেকে মুক্তির পরোয়ানা। ২০৬-র বেশি স্ট্রাইক রেটে তিনটি ছক্কা ও সাতটি বাউন্ডারি মারলেন তিনি। সঙ্গতে ছিলেন মুরলীথরনের সঙ্গে ঘণ্টা বাজিয়ে নামা রিঙ্কু সিং। ‘জেনারেশন বোল্ড’ হিসেবে চিহ্নিত এই দু’জন অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেটে যোগ করেন ৯১। শেষ পাঁচ ওভারে ওঠে ৭৮। অন্যদিকে, ১৫ ওভারের মধ্যেই সাত উইকেট হারিয়ে ভেন্টিলেশনে চলে যায় সানরাইজার্স। 
গত মরশুম থেকে ধরলে টানা চারবার হায়দরাবাদকে হারাল কলকাতা। এই জয় তাই হয়ে উঠছে বিরিয়ানির টক্করে নিজামের শহরকে টেক্কা দেওয়ার মতোই খুশবুদার, সুস্বাদু!

Advertisement

 

কেকেআর: ২০০/৬                       হায়দরাবাদ: ১২০ (১৬.৪ ওভার)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ