ফ্লোরিডা: পাম বিচের গার্ডেন্স নর্থ কাউন্টি পার্কের মাঠ! টমাস টুচেলের তত্ত্বাবধানে পুরোদমে অনুশীলনে ব্যস্ত হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যামরা। কিন্তু ইংল্যান্ড ফুটবলারদের হাতে ‘হুপ ডিভাইস’ কেন? কারও শরীরে আবার সেন্সর। আসলে আধুনিক ফুটবল এখন শুধুই মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। ডেটা, বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মিশ্রিত বিজ্ঞান। সেটাকেই অস্ত্র করে আসন্ন বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড। আর সেই অভিযানে থ্রি লায়ন্সের সঙ্গী হয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো!
পড়ে তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে নাকি? মনে প্রশ্ন জাগছে, পর্তুগালের মহাতারকা কেন ইংল্যান্ডকে সাহায্য করবেন? না, রোনাল্ডো নিজে করছেন না ঠিকই। তবে তাঁর মালিকানায় তৈরি অত্যাধুনিক স্পোর্টস টেকনোলজি সাহায্য করছে টমাস টুচেলের দলকে। গলফ কিংবদন্তি রোরি ম্যাকিলরয় ও রোনাল্ডো — দু’জনে মিলে গড়ে তুলেছেন এমন এক টেক প্ল্যাটফর্ম, যা পেশাদার খেলাধুলার সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে। এই প্রযুক্তি খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা, হৃদস্পন্দন, ঘুম এবং পারফরম্যান্সের ডেটা রিয়াল-টাইমে বিশ্লেষণ করে। প্রতিটি ট্রেনিং সেশনে খেলোয়াড়রা হাতে ‘হুপ ডিভাইস’ (শরীরে ছোট সেন্সর) লাগান। এবং তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যালগরিদম দিয়ে বিশ্লেষণ হয়। প্রধান লক্ষ্য— কোনো ফুটবলার যাতে অতিরিক্ত চাপে না পড়েন এবং চোটের ঝুঁকি আগে থেকে শনাক্তকরণ। অর্থাত্, প্রতিটি ম্যাচের আগে সংশ্লিষ্ট ফুটবলারকে সর্বোচ্চ ফিটনেসে রাখা সম্ভব হয়। কেউ ফিট না থাকলে, সেটাও পরিষ্কার হয়ে যায়। টেক কোম্পানিটির দাবি, তাদের টেকনোলজি ৯৮ শতাংশ নির্ভূলভাবে চোটের পূর্বাভাস দেয়। তাই টমাস টুচেলের তত্ত্বাবধানে ইংলিশ কোচিং স্টাফরা ইতিমধ্যেই এই টেকনোলজি ইংল্যান্ডের ট্রেনিংয়ে পুরোদমে ব্যবহার করছেন। এই সেন্সরের মাধ্যমে শরীরের প্রতিটি তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কোচেরা জানতে পারছেন, কে পরের ম্যাচে ৯০ মিনিট খেলার জন্য ১০০ শতাংশ তৈরি। আর কার বিশ্রাম প্রয়োজন।
রোনাল্ডো সারাজীবন ডেটা ও বিজ্ঞানের সাহায্যে নিজেকে ফিট রেখেছেন। ৪০ বছরেও যেন তিনি মেশিন। তাঁর ফিটনেস তরুণদের রীতিমতো লজ্জায় ফেলবে। সেই অভিজ্ঞতা ও দর্শনই এই টেকনোলজির ভিত্তি। সঙ্গে সিআরসেভেনের ব্র্যান্ডভ্যালু। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি শুধু ইংল্যান্ড নয়, গোটা ক্রীড়াদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে। ফুটবল ও বিজ্ঞানের এই মিলন চ্যাম্পিয়ন গড়ার পথ দেখাচ্ছে— এবং সেই পথের পথিকৃৎ হতে চাইছে ইংল্যান্ড।