Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোয়াকের নির্দেশে এমআরআই  করতে এসে পাকড়াও মহিলা

কোয়াকের নির্দেশে এমআরআই  করতে এসে পাকড়াও মহিলা
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: গ্রামের কোয়াক ডাক্তারের সুপারিশেও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সহজেই হচ্ছে এমআরআই! সেজন্য অবশ্য দালালচক্রকে দিতে হচ্ছে টাকা। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল বৃহস্পতিবার। মেডিক্যালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহুমূল্য এমআরআই পরিষেবা দেওয়া হয়। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে দালালরা। ঘটনায় এক মহিলাকে পুলিস আটক করেছে। এদিন নওদার এক রোগীকে মেডিক্যালের এমআরআই বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছিল। এক কোয়াক ডাক্তারের ‘নির্দেশে’ সেই রোগীর এমআরআই করানো হচ্ছিল। অভিযোগ, সমস্ত কাগজপত্র তৈরি করে এদিন দুপুরে ওই মহিলা রোগী ও তাঁর আত্মীয়দের নিয়ে মেডিক্যালে এমআরআই করাতে আসে।
Advertisement
টোটো দুর্ঘটনায় নওদার বাসিন্দা মিরাজুল শেখের শরীরের বেশ কিছু অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। গ্রামের কোয়াক ডাক্তারকে দেখাতেই তিনি এমআরআই করাতে বলেন। কিন্তু নওদা থেকে এসে বহরমপুরে বেসরকারিভাবে এমআরআই করাতে মোটা টাকা খরচ হবে। অভিযোগ, সেজন্য ওই কোয়াক ডাক্তারই সহজে এমআরআই করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। সে কথা দিয়েছিল, তিনহাজার টাকা দিলেই সে লোক দিয়ে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল থেকে এমআরআই করিয়ে দেবে। এদিন ওই কোয়াক ডাক্তারের নির্দেশমতো কাজল বিবি নামে এক মহিলা এমআরআই করানোর জন্য কাগজপত্র তৈরি করছিল বলে অভিযোগ। তখনই স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর বহরমপুর থানার পুলিস ওই মহিলাকে পাকড়াও করে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই মহিলার বাড়ি নদীয়ার করিমপুরে।
অসুস্থ মিরাজুলের ছেলে ওমর ফারুক বলেন, গ্রামের এক কোয়াক ডাক্তারের মাধ্যমে এই মহিলার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। কোয়াক ডাক্তার এমআরআই করাতে তিনহাজার টাকা চেয়েছিল। আমি একহাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছিলাম। তখন এই মহিলার নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলে। আজ মেডিক্যালে এমআরআইয়ের কাগজপত্র করাতে নিয়ে এসেছিল।
অভিযুক্ত কাজল বিবি অবশ্য বলেন, ওই চিকিৎসক আমাকে বলেছিল, বৃহস্পতিবার বিনামূল্যে এমআরআই হয়। উনি থাকতে পারবেন না। তাই আমাকে এমআরআই করে দিতে হবে। আমি এর জন্য একটা টাকাও পাইনি। আমি ডাক্তারকে চিনলেও নাম জানি না। এর আগে একটা কাজ করে দিয়েছিলাম বলে আমাকে বিনামূল্যে কাজ করে দিতে বলেছিলেন।
রোগীর আত্মীয়দের দাবি, হাসপাতালে সর্বত্র দালালরাজ রয়েছে। কখনও আইসিইউয়ের কর্মী টাকা চায়। আবার কখনও ডিজিটাল এক্সরে ও এমআরআই তাড়াতাড়ি করে দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করে অনেকে। হাসপাতাল করিডরে দালালরা অবাধে যাতায়াত করে।
মেডিক্যালের প্রিন্সিপাল অমিতকুমার দাঁ বলেন, দালালদের সমস্যা আছে। আসলে দৈনিক প্রায় পাঁচ-ছয়হাজার রোগী আসেন। তাই দালালরাজ ঠেকাতে আমরা প্রতিটি ফ্লোরে একজন করে সুপারভাইজার রাখার পরিকল্পনা করেছি। আমরা আলোচনা করে খুব তাড়াতাড়ি এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
সম্পর্কিত সংবাদ