Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

রান্নাঘরের সুরক্ষা

হেঁশেল প্রতিটি বাড়িরই প্রাণকেন্দ্র। কথায় বলে, রান্নাঘরের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে পরিবারের সকলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। অর্থাৎ সুস্থ শরীরের জন্য কেবল ভালো রান্না হলেই চলে না, প্রয়োজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রান্নাঘরও।

রান্নাঘরের সুরক্ষা
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

হেঁশেল প্রতিটি বাড়িরই প্রাণকেন্দ্র। কথায় বলে, রান্নাঘরের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে পরিবারের সকলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। অর্থাৎ সুস্থ শরীরের জন্য কেবল ভালো রান্না হলেই চলে না, প্রয়োজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রান্নাঘরও। আর পাকশালাকে ভালো রাখতে নিয়মিত এর বেশ কিছু সামগ্রীর পরিবর্তন দরকার। বাড়ির অন্দরসজ্জার বিভিন্ন জিনিস যেমন যথাসময়ে পাল্টানো জরুরি, তেমন রান্নাঘরের জিনিসপত্রের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। চিকিৎসকরা বলেন, রান্নাঘরের জরুরি কিছু পরিবর্তন না করলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ে। কোন কোন জিনিস পরিবর্তন করলে ভালো, তা দেখে নেওয়া যাক একনজরে।
কৌটো: যে কোনও রান্নাঘরে এই জিনিসটি থাকবেই। মশলা, নুন, চিনি সহ একাধিক উপকরণ রাখতে কৌটো সকলেরই প্রয়োজন হয়। প্লাস্টিক, ফাইবার, টিন, কাচের মতো নানা জিনিস দিয়ে তৈরি কৌটো হেঁশেলে রাখা হয়। তবে দীর্ঘদিন এগুলি ব্যবহার করা মোটেই উচিত নয়। প্লাস্টিক এমনিতেই স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। তাও অনেক বাড়িতেই সুবিধার জন্য প্লাস্টিকের জিনিসের ব্যবহার হয়। প্রধান সুবিধা হাত থেকে পড়ে গেলেও ভাঙে না। কিন্তু দিনের পর দিন এই কৌটোগুলি রেখে দিলে ঝুঁকি বাড়ে। প্লাস্টিকের রং বদলে যায়। দুর্গন্ধও বের হতে শুরু করে। সেই কৌটোতে রাখা মশলাপাতি রান্নায় ব্যবহার করলে, তা বিপদ ডেকে আনে। আবার টিন, কাচের কৌটোও দীর্ঘদিন রেখে দেওয়া উচিত নয়। প্রতি বছর এধরনের কৌটোগুলি বদলে ফেলুন। 

Advertisement

কাপড়: রান্নাঘরে গরম কিছু ধরতে বা পরিষ্কার করতে কাপড় অপরিহার্য। আনাজপাতি কাটার সময় হোক বা রান্নার পর আভেনে তেলমশলা পরিষ্কার— সেসব তোয়ালে অথবা কাপড় ব্যবহার করে মোছা হয়। রান্নাঘর পরিষ্কার করতেও ব্যবহৃত হয় কাপড়। তবে দিনের পর দিন এই কাপড়গুলি ব্যবহার করলে তেলচিটে হয়ে যায়। গন্ধও বেরতে শুরু করে। রান্নাঘরের দৃশ্যদূষণের অন্যতম কারণ এই তেলচিটে কাপড়। ফলে প্রতিদিন ব্যবহারের পর কাপড় ধুয়ে নেওয়া আবশ্যক। সাবান ও কাপড় কাচার সোডা একটা পাত্রে গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে তাতে কাপড় ধুতে পারলে সবচেয়ে ভালো। এতে কাপড়ের স্থায়িত্ব বাড়ে। তা না হলে নিয়মিত জল দিয়েই ধুয়ে নিন কাপড়। তা শুকিয়ে নিয়ে পুনরায় ব্যবহার করুন। কিন্তু মনে রাখবেন, দুই থেকে তিনমাস পর্যন্ত এই ধরনের কাপড়ের মেয়াদ। এর বেশি ব্যবহার করবেন না। নইলে ব্যাকটেরিয়া, জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। পাশাপাশি বাসন মাজার জন্য যে স্পঞ্জ ও তারজালি ব্যবহার করা হয়, সেটিও মাসে মাসে বদলে নেওয়া দরকার। 

ননস্টিকের বাসন: কম তেলে রান্নার জন্য ননস্টিক অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে ননস্টিক ব্যবহারের বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে, তা না জানলেই সমস্যা হয়। কয়েকদিন পর থেকেই ননস্টিকের পরত উঠতে শুরু করে। পরত ওঠা শুরু করলেই বাসন পাল্টে ফেলতে হবে। অনেকে পুরো পরত ওঠা না পর্যন্ত তা ব্যবহার করেন। তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির হতে পারে। 
চপিং বোর্ড: যে বোর্ড বা পাটাতনের উপর রেখে সব্জি কাটা হয়, সেখানে প্রতিদিন ব্যবহারের পর ছোট ছোট আঁচড় পড়ে। ওই ফাঁকা জায়গাগুলিতে নোংরা জমতে থাকে। ফলে তা দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে রোগ জীবাণুর বিপদ বাড়ায়। পরে ছুরি ফসকে কাটতেও অসুবিধা হয়। তাই চপিং বোর্ডও বদলে ফেলতে হবে অবস্থা বুঝে। 

স্যুইচ বোর্ড: রান্নাঘরে ব্যবহৃত নানা অ্যাপ্লায়েন্সের জন্য আলাদা আলাদা স্যুইচ বোর্ড থাকে। সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। মাঝে মাঝেই কারিগর ডেকে পরীক্ষা করিয়ে নিন। কোনও অসুবিধা হলে কালবিলম্ব না করে সুইচ বদলে ফেলুন। এতে শর্ট সার্কিট হওয়ার হাত থেকে দূরে থাকতে পারবেন। 


শান্তনু দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ