Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাম মিলছে না, রাস্তায় আলু ফেলে অবরোধ সংযুক্ত কিষান মোর্চার

সঠিক দাম না মেলার অভিযোগ তুলে রাস্তায় আলু ফেলে অবরোধ করল সংযুক্ত কিষান মোর্চা।

দাম মিলছে না, রাস্তায় আলু ফেলে অবরোধ সংযুক্ত কিষান মোর্চার
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সঠিক দাম না মেলার অভিযোগ তুলে রাস্তায় আলু ফেলে অবরোধ করল সংযুক্ত কিষান মোর্চা। সোমবার দুপুরে জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া ৭৩ মোড় এলাকায় আধঘণ্টা শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি রোড অবরোধের পাশাপাশি এলাকার একটি হিমঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। 

Advertisement

রাজ্য সরকারকে ১৩ টাকা কেজি দরে আলু কিনতে হবে বলে দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, এবছর আলু হিমঘর পর্যন্ত নিয়ে যেতে ট্রাক পিছু খরচ পড়েছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। সেই আলু এখন ট্রাক প্রতি বিক্রি করতে হচ্ছে ৭০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ, এক ট্রাক আলুতে লোকসান হচ্ছে কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা।   
সংযুক্ত কিষান মোর্চার নেতা তথা জলপাইগুড়ির প্রাক্তন বিধায়ক গোবিন্দ রায় বলেন, জেলার আলুচাষিরা বিপন্ন। কেজিতে ৭-৮ টাকার বেশি দাম পাচ্ছেন না তাঁরা। অথচ বাজারে ২০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। কৃষি বিপণন দপ্তরের বিষয়টি দেখা উচিত। আমাদের দাবি, রাজ্য সরকার সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে ১৩ টাকা কেজি দরে আলু কিনুক। তারপর সেই আলু সরকার সুফল বাংলার স্টলে বিক্রি করবে, নাকি মিড ডে মিলে দেবে, সেটা তারা ঠিক করবে। 
জলপাইগুড়ির সহকারী কৃষি বিপণন অধিকর্তা দেবাঞ্জন পালিত বলেন, এবার দেশে আলুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। সেকারণে চাহিদা কম। রাজ্য সরকার এর আগে চাষিদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে আলু কিনেছে। তখন অনেকে সরকারের কাছে আলু বিক্রি না করে বেশি লাভের আশায় হিমঘরে রেখেছিলেন। কিংবা মাঠ থেকেই ব্যবসায়ীদের কাছে আলু বিক্রি করে দিয়েছিলেন।
কৃষি বিপণন দপ্তরের ওই আধিকারিকের দাবি, এবার জেলায় ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন আলু হিমঘরে মজুত হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৮ শতাংশ আলু বেরিয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলায় কৃষকের কাছ থেকে রাজ্য সরকার সরাসরি ৬৮২ মেট্রিক টন আলু কিনেছে বলে দাবি তাঁর। ওই আলু সুফল বাংলার স্টলে বিক্রি করা হচ্ছে। মিড ডে মিলেও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে খবর, বর্তমানে কেজি প্রতি জ্যোতি আলুর বন্ড বিক্রি হচ্ছে ৮ টাকায়। হিমঘরের ভাড়া ও হিমঘর থেকে আলু বের করার শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে কেজিতে খরচ আরও ৩ টাকা অর্থাৎ দাম দাঁড়াচ্ছে ১১ টাকা। আড়তদারের কাছে যখন ওই আলু পৌঁছচ্ছে, কেজিতে পরিবহণ খরচ লাগছে এক টাকা। অর্থাৎ, পাইকারি বাজারে জ্যোতি আলুর দাম দাঁড়াচ্ছে ১২ টাকা। এই হিসেবে খুচরো বাজারে ১৬ টাকার বেশি দাম হওয়া উচিত নয়। 
 নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ