Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নালা-নর্দমার জলকে পুনর্ব্যবহার যোগ্য করে সেরার পুরস্কার লাভ কীর্ণাহারের পঞ্চায়েতের

নালা-নর্দমার জলকে পুনর্ব্যবহার যোগ্য করে  সেরার পুরস্কার লাভ কীর্ণাহারের পঞ্চায়েতের
  • ১৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: জায়গায় জায়গায় সাবমার্সিবল ও গভীর নলকূপ করার ফলে দিন দিন নামছে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর। জলের অপচয় না কমালে ভবিষ্যতে জলের অভাব তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা পরিবেশপ্রেমীদের। সেই ভাবনায় নালা-নর্দমার ধূসর জল পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থাপনা করে নজর কাড়ল বীরভূম জেলার প্রত্যন্ত কীর্ণাহার এক নম্বর পঞ্চায়েত। শুধু নজরকাড়াই নয়, রাজ্যে সেরার পুরস্কারও আদায় করেছে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত। মঙ্গলবার কলকাতার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সভায় পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার কীর্ণাহার এক নম্বর পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের পুরস্কৃত করেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই খুশির হওয়া নানুর ব্লকে। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমশ নিম্নমুখী হওয়ায় উদ্বিগ্ন রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার। এই পরিস্থিতিতে জলের অপচয় রোধে এক বছর ধরে অভিনব পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেয় নানুর ব্লকের প্রত্যন্ত কীর্ণাহার এক নম্বর পঞ্চায়েত। গত বছর প্রায় ছয় লক্ষ টাকা খরচ করে পঞ্চায়েত এলাকার বড় বড় ড্রেনগুলিকে পরিষ্কার করার কাজ শুরু করে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছিল। সংস্কার হওয়া বড় ড্রেনের মাধ্যমে সেই জলপ্রবাহকে পুনরায় ‘ডিসেন্ট্রালাইজড ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট সিস্টেম’ (ডিয়াটস) প্রকল্পের মাধ্যমে জল পরিশোধন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই জলকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ধারণ করা হচ্ছে। সেই ট্যাঙ্কের দৈর্ঘ্য ৩৫ মিটার, প্রস্থ চার মিটার এবং গভীরতা তিন মিটার। সেটির জল ধারণক্ষমতা ৫৪ হাজার লিটার। সেই ট্যাঙ্কের ইনলেটের মাধ্যমে পরিশোধিত জল জমা হওয়ার পর আউটলেটের মাধ্যমে সেই পুনর্ব্যবহারযোগ্য জল চাষের কাজে ব্যবহার করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কীর্ণাহার এক নম্বর পঞ্চায়েত। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ২২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তিনটি ‘সেটলার উইথ অ্যানারোবিক বাফেল্ড রিঅ্যাক্টর’ স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিকাশি নালার নোংরা জল পরিশোধন করা হয়। বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৭৫০টি পরিবারের স্নান ও অপচয় হওয়া জলের শোধন প্রক্রিয়া কার্যকর হচ্ছে। সমগ্র ডিয়াটস্ প্রকল্পের বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ৩১ লক্ষ টাকা। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির রূপায়ণে বিশেষজ্ঞ অর্ধেন্দু মজুমদার বিশেষভাবে সাহায্য করেছেন বলে জানিয়েছেন নানুরের বিডিও সন্দীপ সিংহ রায়। তিনি বলেন, ধূসর জল পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থাপনার প্রকল্পে প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হলেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব অনস্বীকার্য। পরিবেশবিদরা মনে করছেন, ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমশ হ্রাস পাওয়ায় এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। জলের পুনর্ব্যবহারের এই দৃষ্টান্তমূলক কাজ রাজ্যের অন্যান্য পঞ্চায়েতকেও অনুপ্রাণিত করবে বলে সকলেই আশাবাদী। বিষয়টি জানতে পেরে উচ্ছ্বসিত নানুরের তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতির কাজল শেখ। তিনি বলেন কীর্ণাহারের মতো প্রত্যন্ত পঞ্চায়েতের এই ধরনের অভূতপূর্ব ভাবনা রাজ্যের অন্যান্য পঞ্চায়েতের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আমি আশাবাদী। সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ