সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং মামলায় ১৬ মাস পর কিংপিন সইদুলের দাদা মহম্মদ ফয়জলকে জালে তুলল ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ। সোমবার রাতে চটহাট থেকে গ্রেফতার করা হয় ফয়জলকে। এনিয়ে এখনও পর্যন্ত এই মামলায় পাঁচজন ধরা পড়ল। প্রায় ১৫০ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে।
অন্যের অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে আর্থিক লেনদেনে করার মতো ৮টি মামলা রুজু করে ইতিমধ্যেই দার্জিলিং জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক রায় বলেন, আর্থিক জালিয়াতি সংক্রান্ত প্রথম যে মামলা হয়েছিল তাতে সইদুল সহ তার দাদা মহম্মদ ফয়জলের নামেও অভিযোগ ছিল। তবে ঘটনার পর থেকে সে পালিয়েছিল। ওই মামলার চার্জশিট দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়। সোমবার এনজেপি থেকে চটহাটে আসছিল অভিযুক্ত। আমরা সূত্র মারফত খবর পেয়ে তাকে গ্রেফতার করেছি। দাদা ও ভাই মিলে ১৫০ কোটি টাকার জালিয়াতি করেছিল। ধৃত ফয়জল এই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ মে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক রায়ের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ চটহাটে অভিযান চালায়। তাতে সইদুলের বাড়ি ও দোকান থেকে প্রায় ৪১৪ এটিএম কার্ড, ২৩৫টি চেকবুক, ১৪৮টি পাসবুক সহ আধারকার্ড, প্যানকার্ড উদ্ধার হয়েছিল। প্রথম দফায় সইদুলের শাগরেদ অনিল গোপ ও মহম্মদ অনবরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার ন’মাস পর গত মার্চ মাসে মহম্মদ সইদুল ও তার আর এক শাগরেদ তপন গোপ গ্রেফতার হয়। এবার ওই ঘটনায় পলাতক সইদুলের দাদা ফয়জল গ্রেফতার হল।
পুলিশের তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। ওসব অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। ধৃত সইদুল ও তার দাদা ফয়জল অন্যের নথি সংগ্রহ করে সিমকার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলত। এরপর প্রতি অ্যাকাউন্ট বাবদ সবার্ধিক ৭০ হাজার টাকা কমিশন তুলত। এরা মূলত অ্যাকাউন্টের তথ্য গুজরাত ও মুম্বই পাঠাত। শুধু এদেশে নয়, এই চক্রের শাখা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দুবাইয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক রায়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের সিট গঠন করে গোটা মামলার তদন্ত করছে পুলিশ। নিজস্ব চিত্র।