নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কলকাতা শহরতলির বেসরকারি হাসপাতালে প্যাকেজ সিস্টেমে অপারেশন করত বিহারের কিডনি গ্যাং। দাতা এবং গ্রহীতাকে ওইসব নার্সিংহোমে রেখে মোটা টাকার প্যাকেজে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা হয় অবৈধভাবে। ভগবানগোলার রৌশানের কিডনি নেওয়ার ক্ষেত্রেও নাগের বাজারের একটি নার্সিংহোমমে অপারেশন করা হয়েছিল বলেই জানতে পেরেছে পুলিস। ভুয়ো কাগজপত্র, এমনকী দাতার নকল পরিচয়পত্রও পেশ করা হচ্ছে ওইসব নার্সিংহোমে। ফলে পরবর্তীকালে তদন্তে মিলছে না কিডনি দাতাদের খোঁজ। ঠিক একই কায়দায় রৌশানের কিডনি কিনে নেওয়া হয়েছিল বলেই পুলিসকে জানিয়েছে সে। মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকা তাকে দেওয়া হলেও গ্রহীতাদের কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। নার্সিংহোমের মোটা অঙ্কের টাকার প্যাকেজ মিটিয়ে দেয় কিডনি গ্রহীতারা। গোটা অপারেশন প্রক্রিয়া যাতে গোপনে করা যায় তার সমস্ত বন্দোবস্ত করে বিহারি গ্যাং। এভাবেই অত্যন্ত গোপনে টাকার টোপ দিয়ে এই বাংলার তরতাজা যুবকদের কিডনি কিনে নিচ্ছে বিহারের গ্যাং। ‘অর্গান ডোনেশন’-এর নিয়ম না মেনে শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে হস্তান্তর হচ্ছে মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কিডনি নিয়ে, ২৫ লক্ষ টাকায় তা অবৈধভাবে গ্রহীতাকে পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। যা নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রোফাইলে ঢুকে কিডনি গ্যাং টোপ দিচ্ছে। সেই টোপ গিললেই মুহূর্তের মধ্যে কিছু টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিডনি পাচার চক্র হাসপাতালের প্যাকেজে সব ব্যবস্থা করে ফেলে নিমেষে।



