নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: শিল্পশহর খড়্গপুরের হোটেলে মধুচক্র চালানোর অভিযোগ উঠল এক দাপুটে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। তিনি বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। দলের রাজ্য সম্পাদিকা অগ্নিমিত্রা পলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে মেদিনীপুর ও খড়্গপুরে সর্বজনবিদিত। হোটেলটির মালিকও ওই প্রধান। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার গভীর রাতে হোটেলে হানা দেয় খড়্গপুর লোকাল থানার পুলিস। তল্লাশি চালিয়ে চারজন যুবতীকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় ম্যানেজার বিক্রম ছেত্রীকে। তার বাড়ি গোপালী এলাকায়। তবে, মূল অভিযুক্ত ওই পঞ্চায়েত প্রধান তথা বিজেপি নেতা বিমল দাস ওরফে টিঙ্কু সুযোগ বুঝে চম্পট দিয়েছেন। তাঁকে খুজতে তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছে পুলিস।
Advertisement
ক’দিন বাদে মেদিনীপুর বিধানসভার উপনির্বাচন। তার আগেই দলের পঞ্চায়েত প্রধানের হোটেলে মধুচক্র চালানোর পর্দা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। হোটেলের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। তাঁরা বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন। হোটেলটি সিল করে দেয় পুলিস। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তড়িঘড়ি আসানসোলে সাংবাদিক বৈঠক করে অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, ‘পুরো ঘটনাটির পিছনে তৃণমূল ও মেদিনীপুর জেলা পুলিসের ষড়যন্ত্র রয়েছে। উপ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির বদনাম করা হচ্ছে। হোটেলটি আমাদের দলীয় পঞ্চায়েত প্রধানের হলেও সেটি ২০২২ সালে অন্য একজনকে লিজ দিয়ে দেন তিনি। লোকসভা ভোটের সময়ও ওই নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছিল পুলিস।’ বৈঠকে লিজ সংক্রান্ত কাগজপত্রও তুলে ধরেন বিজেপি নেত্রী। খড়গপুর গ্রামীণ বিধানসভার বিধায়ক দীনেন রায় বলেন, ‘বিজেপি নেতা বিমল দাস খুবই প্রভাবশালী। ওঁর সঙ্গে বিজেপির প্রথমসারির নেতাদের সঙ্গে বেশ ভালোই সম্পর্ক। এলাকায় বিভিন্ন অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত বিমল। স্থানীয়দের অনেকেই জানতেন, এই হোটেলে অসামাজিক কাজ হয়। বিজেপি নেতাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’ বুধবার রাতে আচমকা বিশাল পুলিস বাহিনী ওই হোটেলে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে। তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। একাধিক ঘর থেকে মোট চারজন যুবতীকে আটক করে পুলিস। উদ্ধার হয় মধুচক্রের রেট চার্ট, অনলাইনে পেমেন্টের কিউআর কোড সহ বিভিন্ন নথিপত্র। এরপরই হোটেলের ম্যানেজার বিক্রমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। যুবতীদেরও জেরা করে হোটেলে চলা মধুচক্র সম্পর্কে নানা তথ্য পায় পুলিস। পরে ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার ধৃতকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিস হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে খড়গপুর-১ ব্লকের গোপালী গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নেয় বিজেপি। ভোটে লড়েছিলেন বিমল। জিতেই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান হন। তাঁর সঙ্গে বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পল সহ একাধির শীর্ষনেতার সখ্যভাব রয়েছে। লোকসভা ভোটে অগ্নিমিত্রার হয়ে প্রচারে মুখ্য ভূমিকা নিতেও দেখা গিয়েছে বিমলকে। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ উঠেছিল। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি রমা গিরি বলেন, ‘পঞ্চায়েত বোর্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ভোট এলেই এসব হয়।’



