সংবাদদাতা, কাটোয়া: শহরের বাসিন্দারা ভালোবেসে সোনার মা বলে ডাকেন। কাটোয়া শহরে খেপিমাকে তিন কেজি সোনার গয়না দিয়ে এদিন সাজিয়ে তোলা হয়। রবিবার কড়া পুলিশ পাহারায় ব্যাঙ্কের লকার থেকে খেপিমার গয়না নিয়ে এসে রাখা হয়। তারপর রাতে তা পরানো হয়। সেই অলঙ্কৃত খেপি মাকে দেখতে মানুষের ঢল নামে।
অলঙ্কার পরানোর সময় মন্দিরের গর্ভগৃহে পুলিশকর্মী ও মন্দির কমিটির নির্দিষ্ট কয়েকজন ছাড়া কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত প্রচুর পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবে। বিসর্জনেও রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। মায়ের শহর প্রদক্ষিণের জন্য শহরবাসী দাঁড়িয়ে থাকেন। বাতাসা ছড়ানো হয়।
কাটোয়া শহরে খেপি মায়ের পুজো কে চালু করেছিলেন, তা নিয়ে দ্বিমত থাকলেও এই পুজোর আকর্ষণ বেড়েই চলেছে। খেপিমার মূল আকর্ষণ হল সোনার গয়না। সোনার গয়না খেপিমাকে পরানো দেখতে মন্দির চত্বরে ভক্তদের ঢল নামে। নিরাপত্তার জন্য গর্ভগৃহ সহ মন্দির চত্বর পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী জেলা সহ ভিনরাজ্য থেকেও ভক্ত সমাগম হয়। পুজোর ভিড় সামলাতে হিমশিম খান পুজো কমিটি সহ কাটোয়া থানার পুলিশকর্মীরা। শহরের বাসিন্দা নিতাই সাহা, শুভ মণ্ডল বলেন, খেপিমাকে নিয়ে আমাদের আবেগ রয়েছে। মাকে ডাকলে সাড়া দেন। মা সকলের ইচ্ছেপূরণ করেন।
খেপি মায়ের মন্দির চত্বর সংস্কার করা হয়েছে। পুজো উপলক্ষ্যে মন্দির চত্বরে প্রচুর পুলিশকর্মী ও এসআই পদমর্যাদার অফিসাররা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। মন্দিরের প্রবেশপথ সংলগ্ন এলাকা বাঁশের ব্যারিকেড করে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। শহরের লেলিন সরণি রোড ও থানা রোড থেকেই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বেশ কয়েকটি প্রবেশপথ করা হয়েছে।
শহরের বাসিন্দাদের বিশ্বাস, খেপিমার কাছে গেলে দেবী খালি হাতে কাউকে ফেরান না। তাই প্রতি বছর লক্ষাধিক ভক্ত সমাগম হয়। খেপিমা পুজো সমিতির সম্পাদক সুজন বৈরাগ্য বলেন, মাকে এবার তিন কেজি সোনা ও প্রায় ৫-৬কেজি রুপোর গয়না দিয়ে সাজানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য সুষ্ঠুভাবে পুজো দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
কাটোয়া শহরে ঝুপোমার পুজোয়ও ভিড় জমান বাসিন্দারা। শহরে নিমগাছকেই কালী রূপে বহুকাল ধরে পুজো করে আসছেন এলাকার বাসিন্দারা। শুধু তাই নয় নিমগাছকেই কাপড়, সোনার গয়না দিয়ে প্রতিমার মতো করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।