Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছাত্র ও শিক্ষক দুয়েই টান, প্রায় দু’বছর ধরে বন্ধ খেজুরির স্কুল

শিক্ষক ও ছাত্রের অভাবে দু’বছর ধরে বন্ধ খেজুরি­­-১ ব্লকের পশ্চিমতল্লা আপার প্রাইমারি স্কুল।

ছাত্র ও শিক্ষক দুয়েই টান, প্রায় দু’বছর ধরে বন্ধ খেজুরির স্কুল
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: শিক্ষক ও ছাত্রের অভাবে দু’বছর ধরে বন্ধ খেজুরি­­-১ ব্লকের পশ্চিমতল্লা আপার প্রাইমারি স্কুল। এক সময় যে স্কুল ছাত্রছাত্রীদের কোলাহলে গমগম করত, বর্তমানে সেই স্কুলই তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে! এলাকার বাসিন্দারা তথা অভিভাবকরা অবিলম্বে এই স্কুল আগের মতো সচল রাখার দাবি তুলছেন। এবিষয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি জালালউদ্দিন খান বলেন, স্কুলটি সম্পর্কে খোঁজ নেব। স্কুল যাতে  চালু করা যায়, সেই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করব।  

Advertisement

জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে আপার প্রাইমারি এই স্কুল চালু হয়। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্কুলের দ্বারোদ্ঘাটন হয়। এখানে মূলত পঞ্চম শ্রেণি থেকে  অষ্টম পর্যন্ত ক্লাস হত। পার্শ্ববর্তী পশ্চিমতল্লা প্রাথমিক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা এখানে ভর্তি হত। আশপাশের এলাকায় দূরে হাইস্কুল থাকায় অভিভাবকরা তাঁদের ছেলেমেয়েদের এখানে ভর্তি করাতেন। এখানে প্রথমে দু’জন অতিথি শিক্ষক নিযুক্ত হন। পরবর্তীকালে আরও দু’জন অতিথি শিক্ষক কাজে যোগ দেন। ধাপে ধাপে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এক সময় এখানে পড়ুয়া সংখ্যা ছিল ৬৫। কিন্তু অতিথি শিক্ষকদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও আর নতুন করে নিয়োগের ব্যবস্থা হয়নি। শেষমেশ ২০২২ সালের শেষে এই স্কুলে অতিথি শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র একজন। তখন স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল ৩০। 
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেই সময় মাঝপথে স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে ছাত্রছাত্রীরা কোথায় যাবে, এই ভেবে তখন কর্তৃপক্ষ ব্লক প্রশাসন ও অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসে চিঠি দিয়ে জানায়, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়া হোক, না হলে ছাত্রছাত্রীদের বছর নষ্ট হবে। সবদিক বিবেচনা করেই এই স্কুল ২০২২ সালের শিক্ষাবর্ষের শেষে বন্ধ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ২০২৩ সালে আর শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়নি ওই স্কুলে। অথচ বন্ধ ওই স্কুলের পাশেই পশ্চিমতল্লা প্রাইমারি স্কুল সবসময় পড়ুয়াদের কোলাহলে ভরে থাকে। 
স্কুলের শিক্ষক রতিকান্ত বর্মন বলেন, আমাদের স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পাশ ছেলেমেয়েরা ভর্তি হত। পড়ুয়াদের নিয়ে খুব একটা সমস্যা ছিল না।  কিন্তু শিক্ষকের অভাবে স্কুল বন্ধ হয়ে গেল। আবার শিক্ষক নিয়োগ হলে স্কুল আগের মতো চালু হতে পারে। 
স্থানীয় বাসিন্দা ধীরেন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, আমরা চাই, আগের মতো শিক্ষক নিয়োগ করে স্কুলটি ফের চালু হোক। স্কুল এভাবে পড়ে রয়েছে দেখে খুবই খারাপ লাগে। আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে কোনওদিন স্কুলটি আগের মতো সচল হবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ