Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খড়্গপুর সদর বিধানসভায় ম্যাপিংয়ের কাজে গতি শ্লথ

বাংলায় শুরু এসআইআর। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও হয়েছে ম্যাপিং। কিন্তু এই জেলার খড়গপুর সদর বিধানসভা ম্যাপিংয়ে অনেকটাই পিছিয়ে।

খড়্গপুর সদর বিধানসভায় ম্যাপিংয়ের কাজে গতি শ্লথ
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বাংলায় শুরু এসআইআর। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও হয়েছে ম্যাপিং। কিন্তু এই জেলার খড়গপুর সদর বিধানসভা ম্যাপিংয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। এই বিধানসভা এলাকায় মাত্র ৩৫ শতাংশ ম্যাপিং হয়েছে। এই রিপোর্ট সামনে আসতেই তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে তরজা চরমে উঠেছে। জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১৫টি বিধানসভা এলাকায় ম্যাপিং হয়েছে। জেলায় প্রায় ৬৫ শতাংশ ম্যাপিং হয়েছে। এখন প্রশ্ন ম্যাপিং কী? প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, রাজ্যের ভোটার তালিকার মূল্যায়ন শুরু করতে নানা পদক্ষেপ। ২০০২ সালে রাজ্যে শেষবার এসআইআর হয়। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) অফিসের ওয়েবসাইটে সেই তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। ২৩ বছর আগের সেই ভোটার তালিকার সঙ্গে এবার মিলিয়ে দেখা হবে রাজ্যের বর্তমান ভোটার তালিকা, যা কমিশনের পরিভাষায় ‘ম্যাপিং অব ইলেক্টর’। প্রশ্ন উঠছে, খড়গপুরে কীভাবে কমল ম্যাপিং। এর ফলে কোন রাজনৈতিক দল বাড়তি সুবিধা পাবে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, গোটা রাজ্য জুড়েই ম্যাপিং হচ্ছে। খড়গপুরকে বলা হয় মিনি ইন্ডিয়া। বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও ভাষার মানুষের বসবাস। তাই ম্যাপিংয়ের শতকরা হার কম। তবে এই ম্যাপিংয়ের ফলে বেকায়দায় পড়বে বিজেপি। সামনের বিধানসভা নির্বাচনে হাতেনাতে ফল পাবে গেরুয়া শিবির। বিজেপির কিছু নেতা দলটাকে ডুবিয়ে ছাড়ল। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, খড়গপুর বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। তৃণমূল তা মেনে নিতেই পারছে না। আসলে হেরে যাওয়ার ভয় মনের ভিতরে ঢুকে বসেছে। নির্বাচন কমিশনের উপর ভরসা আছে। তাঁরা নিশ্চিত ভাবে বিষয়টি দেখবেন। তৃণমূল পুরনো পদ্ধতিতে আর জিততে পারবে না। ওদের সকলে দুর্নীতিগ্রস্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বাংলা সহ ১২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাংলা সহ বাকি রাজ্যের ভোটার তালিকা ফ্রিজ করা হয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ম্যাপিং অনেক আগেই শুরু করা হয়েছিল। জেলায় ম্যাপিং হয়েছে ৬৫.১৫ শতাংশ। ম্যাপিংয়ে জেলার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে দাঁতন বিধানসভা। এছাড়া কেশিয়াড়ি ৬৯.৮৪ শতাংশ, সবং ৬৯.০৩ শতাংশ, ডেবরা ৭০.০৬ শতাংশ, ঘাটালে ৭০.৪০ শতাংশ, কেশপুরে ৭০.৪৭ শতাংশ ও গড়বেতায় ৬৬.৪৭ শতাংশ ম্যাপিং হয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, খড়গপুরে তেলুগু ভোটারের পরিমাণ কমেছে। তবে আগের চেয়ে বিহারী ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তার অন্যতম কারণ, রেলের পার্মানেন্ট পদে কর্মীর সংখ্যা কমেছে। যার প্রভাব পড়েছে ম্যাপিংয়ে। খড়গপুর শহরের বাসিন্দা রাহুল যাদব বলেন, ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু খড়গপুরে ম্যাপিং কম হবে কেন। তার সঠিক উত্তর নেই।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ