সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: বার জন্য বাড়ি বা হাউস ফর অল প্রকল্পে খড়্গপুর পুরসভা সাড়ে চার কোটি টাকা পেল। এই টাকায় সাড়ে আটশো উপভোক্তা উপকৃত হবেন। তাঁরা মাথায় স্থায়ী ছাদ পাবেন। দ্রুত বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করে তাঁদের হাতে বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হবে। পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ বলেন, বুধবার পুরসভা হাউস ফর অল প্রকল্পে ৪ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা পেয়েছে। এই টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। যাতে দ্রুত কাজ শেষ হয় সেব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চেয়ারপার্সন বলেন, টাকা না আসায় ৮৪২টি বাড়ি অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় আছে। কোনও বাড়ির ভিত পর্যন্ত হয়েছে। কিছু বাড়ির ছাদ ঢালাই বাকি আছে। আবার কোনও কোনও বাড়ির পলেস্তারা সহ অন্যান্য কাজ বাকি আছে।
এই টাকায় সেই সব কাজ শেষ হবে। এরফলে ৮৪২ জন উপভোক্তা উপকৃত হবে। তাদের বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হবে। তারা বাড়ি পেয়ে যাবে। পুরসভা সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত এই শহরে ৩০৬৬টি বাড়ি উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই বাড়িগুলির কাজ শেষ হলে ৩৯০০ জন বাড়ি পাবেন।
প্রসঙ্গত হাউস ফর অল প্রকল্পে বাড়ি করতে খরচ ধরা হয় ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা। এই টাকার ভেতর পাখা, আলোও লাগিয়ে দেওয়া হয়। থাকে লোহার দরজা জানলা। উপভোক্তাকে দিতে হয় ২৫ হাজার টাকা। রাজ্য সরকার দেয় দু’লক্ষ টাকা। বাকি টাকা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। তিনটে পর্যায়ে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হয়। এক পর্যায়ের কাজ শেষ হলে অপর পর্যায়ের টাকা দেওয়া হয়।
খড়্গপুরে ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে অবশ্য ২৬টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এই প্রকল্পের সুবিধা পান। আইআইটি ও রেল এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এই প্রকল্পের সুবিধা পান না। এই সব ওয়ার্ডের গরিব বাসিন্দারা বঞ্চিতই থেকে যান। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে লোকসভা ভোটের আগে এই প্রকল্পে ৯ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সময়ে টাকা খরচ অর্থাৎ জিও ট্যাগিং করতে না পারায় প্রায় চার কোটি টাকা ফেরত চলে যায়।
রাজ্য পুর উন্নয়ন নিগম সেই সময় এই পুরসভা থেকে চার কোটি টাকা তুলে অন্য পুরসভাকে দিয়ে দেয়। চেয়ারপার্সন বলেন, পরবর্তী কালে তিনটি পর্যায়ে সেই টাকা অবশ্য ফের আমাদের ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এবার বরাদ্দ হওয়া সাড়ে চার কোটি টাকা খরচ করার পর নতুন বাড়ির জন্য টাকা পাওয়া যাবে। তার জন্য কাউন্সিলারদের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে।