সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: মানুষকে পরিষেবা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে রাজ্যের পুরদপ্তর ভেঙে দিয়েছে খড়্গপুর পুর বোর্ড। বসানো হয়েছে প্রশাসক। আসন্ন বিধানসভা ভোটে এই বিষয়টিকেই ইস্যু করছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। তৃণমূল অবশ্য এনিয়ে চিন্তিত নয়। যোগ্য জবাব দিতে তারাও তৈরি। অন্যদিকে আন্দোলনে নেমে পড়েছে বামেরা। আন্দোলনের কর্মসূচি নিচ্ছে কংগ্রেসও। সব মিলিয়ে পুর বোর্ড ভাঙার ঘটনা বিধানসভা ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। শহরের সর্বত্রই এই নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
শহরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, আমরা বিধানসভা ভোটে এই বিষয়কে ইস্যু করব। মানুষের কাছে ওদের স্বরূপ তুলে ধরব। যাদের সরকার, তাদেরই পুর বোর্ড, তারাই অযোগ্য বলে ভেঙে দিয়েছে। কোনও উন্নয়ন হয়নি। লুটপাট হয়েছে। তৃণমূল নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে সময় কাটিয়েছে। মানুষকে পরিষেবা দিতে পারেনি। খড়্গপুরের জনগণ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে একেবারে ধুয়ে দেবে।
তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, কাজের ক্ষেত্রে পরিষেবা দিতে এই বোর্ড ব্যর্থ হয়েছে। সরকার মনে করেছে তাই জনস্বার্থে বোর্ড ভেঙে দিয়েছে। কারণ সরকার চায়, মানুষ পরিষেবা পাক। আমরা মানুষকে তা বলব। পুরসভাকে সামনে রেখে তো আর ভোট হবে না। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর উন্নয়নকে সামানে রেখে ভোট হবে।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রাক্তন কাউন্সিলার দেবাশিস ঘোষ বলেন, আমরাও বিধানসভা ভোটে এই বিষয়কে ইস্যু করব। নির্বাচিত পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়ার বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলনের কর্মসূচি নিচ্ছি। আমাদের প্রশ্ন প্রশাসক কেন? তোমরা পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছ, নতুন করে মানুষের রায় নাও।
বামফ্রন্ট অবশ্য আন্দোলনে নেমে পড়েছে। পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়ার বিরুদ্ধে শুক্রবারই তারা পুরসভার সামনে বিক্ষোভ দেখায়।
প্রসঙ্গত, শহরের ৩৫টি ওয়ার্ড নিয়ে খড়্গপুর সদর বিধানসভা। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের হাত থেকে এই বিধানসভা ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। বিধায়ক হন দিলীপ ঘোষ। পরে লোকসভা ভোটেও দিলীপবাবু এই বিধানসভা থেকে ভালো ভোটে এগিয়ে থেকে সাংসদ হন। বিধানসভা উপ নির্বাচনে অবশ্য তৃণমূলে প্রদীপ সরকার জয়ী হন। গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন প্রদীপবাবু। আবার গত লোকসভা ভোটে ৩১টি ওয়ার্ডেই পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল। তাবড় তাবড় নেতারাও তাদের ওয়ার্ডে তৃণমূলকে জেতাতে পারেনি।