ভারতের ফিফা র্যাঙ্কিং ১৩৩। ফেডারেশনের কর্তারা চেয়ার বাঁচাতে ব্যস্ত। দেশের সর্বোচ্চ লিগ, আইএসএলের ভবিষ্যৎও বিঁশ বাও জলে। এমন টালমাটাল অবস্থায় জাতীয় দলের দায়িত্ব নেয় খালিদ জামিল। তাই কাফা নেশনস কাপে ভারত ভালো কিছু করবে, তা বোধহয় অন্ধ ভক্তও ভাবেননি। কিন্তু, খালিদ করে দেখিয়েছে। টিম ইন্ডিয়াকে ব্রোঞ্জ জিতিয়ে ও প্রমাণ করল, ভারতীয় কোচেরাও পারে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে। আমি তো বলব, আরও আগে দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল ওকে।
খালিদকে কেউ কেউ ‘তুকতাক কোচ’ বলত। দল সাফল্য পেলে ব্ল্যাক ম্যাজিকের চমৎকার বলতেও ছাড়েনি নিন্দুকরা। মাত্র ১৫ দিনে সবাইকে চুপ করিয়ে দিয়েছে খালিদ। কাফা নেশনস কাপ কিন্তু পাড়ার টুর্নামেন্ট নয়। ইরানের বিশ্ব র্যাঙ্কিং ২০, ওমানের ৭৯ ও তাজিকিস্তানের ১০৬। এমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই চাট্টিখানি কথা নয়। তার উপর মোহন বাগান কোনও প্লেয়ার ছাড়েনি। সন্দেশ ঝিংগানও টুর্নামেন্টের মাঝপথে চোট পায়। তা সত্ত্বেও আগের বিদেশি কোচদের মতো কুমিরের কান্না কাঁদেনি খালিদ। বরং হাতে থাকা ফুটবলারদের উপর আস্থা রেখেই পরিকল্পনা সাজিয়েছে। ইরফানদের চেষ্টার তারিফ করতেই হবে। ওমানের বিরুদ্ধে কী লড়াইটাই না করল! আনোয়ার, গুরপ্রীতদের নাছোড়বান্দা মনোভাবের কাছেই বশ মানতে হয়েছে কার্লেস কুইরোজের দলকে।
কাফা নেশনস কাপে ভারতের ব্রোঞ্জ জয়ের নেপথ্যে অবশ্যই খালিদের মগজাস্ত্র। প্রো লাইসেন্সটা তো এমনি এমনি পায়নি! আইএসএলে জামশেদপুরকে স্বপ্ন দেখিয়েছে। ওর যোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাছাড়া জাতীয় দলের জন্য দেশীয় কোচরাই আদর্শ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ভাষাগত সুবিধা। কোচ কী চায়, সেটা সহজেই বুঝতে পারে ফুটবলাররা। আমাদের সময় এতো বিদেশি কোচের বাড়বাড়ন্ত ছিল না। পিকে ব্যানার্জি, অমল দত্তের অধীনে কত সাফল্য এসেছে! তাই ফেডারেশন কর্তাদের অনুরোধ, খালিদের উপর আস্থা রাখুন।