নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: এবার মুর্শিদাবাদের এক কংগ্রেস নেতাকে নোটিস দিয়ে তলব করল এনআইএ। সাগরপাড়া থানার সাহেবনগরের বাসিন্দা আব্দুল জব্বারকে ডেকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তিনি জলঙ্গি ব্লক কংগ্রেসের সম্পাদক। পাশাপাশি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। আব্দুল জব্বারকে ছাড়াও বেলডাঙার বটতলা এলাকার বাসিন্দা আজিজ শেখকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে টোটো চালান। তাঁকেও মঙ্গলবার কলকাতার এনআইএ দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন বলে জানা গিয়েছে। গত সপ্তাহেও এই জেলার এসডিপিআইয়ের দুই কর্মীকে ডেকে পাঠায় এনআইএ। তাদেরও এই বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডে বেশ কিছু তথ্য জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে এদিন কংগ্রেসের পদাধিকারী ওই নেতাকে ডাকার ফলে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
জব্বারসাহেব বলেন, আমি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করি। দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছি। এনআইএ আমাকে কেন হাজিরার নোটিস পাঠিয়েছে জানি না। যে কেসের জন্য আমাকে নোটিস পাঠানো হয়েছে, সেই কেস সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির কথা আমি এখনই বলব না। তবে ডেকেছে যখন হাজিরা দিতে যাব। তদন্তে সহায়তা করব। জলঙ্গি ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ডেকেছে। তাতে সাড়া দিয়ে উনি যাচ্ছেন। উনি হাজিরা দিয়ে আসার পর যা বলার বলব। এখন এনিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।
বহরমপুরের বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, যেখানে বিস্ফোরণ বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ঘটে সেখানেই ইসলামিক উগ্রতাবাদী কিছু মানুষের মদত আমরা দেখেছি। ভারতবর্ষে যত জঙ্গি ধরা পড়েছে সবক্ষেত্রে কমন ব্যাপার এটা। এদের এতদিন তোষণ করেছে কংগ্রেস সরকার। বর্তমানে পহেলগাঁও কাণ্ডের পর যেভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে, তাতে এমন অনেক সন্দেহভাজনকে ডেকে পাঠাবে বিভিন্ন সংস্থা। দেশে এখন জাতীয়তাবাদী শক্তি। সামনের দিনে আরও কুচক্রী ধরা পড়বে। দেশে কোনও জঙ্গি থাকবে না। বিভেদ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে লাগাতার তদন্ত চলবে।
কংগ্রেস মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, প্রথম কথা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় যারা দেশের অবমাননা বা ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। যেখান থেকে এই ধরনের কার্যকলাপ আসুক সেখান থেকে প্রতিহত করতে হবে। সেই জন্য তদন্তের প্রয়োজন। তদন্তের জন্য যে কাউকে ডাকতে পারে। আর কাউকে ডাকা মানে, সে অভিযুক্ত নয়। প্রশাসন কাউকে তথ্যের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। জেলা কংগ্রেস মনে করে ওই নেতার সামনাসামনি করা উচিত এবং তদন্তে সহযোগিতা করা উচিত।
বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, ২০১৪ সালের বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে এই জেলা থেকে এখনও বেশ কয়েকজনকে ডাকা হচ্ছে। এটা যথেষ্ট উদ্বেগের। কংগ্রেসের যে নেতাকে ডেকেছে তাঁর এ বিষয়ে যোগ আছে কি না, তিনিই বলতে পারবেন। তবে যদি এই ঘটনার সঙ্গে কেউ যুক্ত থাকে, তদন্তকারী সংস্থার উচিত অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।