পিনাকী ধোলে, বোলপুর: এবছরও ধুমধাম করেই হতে চলেছে কেষ্টর কালীপুজো। দুঃসময়ের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বীরভূমের তৃণমূল নেতা এখন অনেকটাই স্বমহিমায়। গুরুত্ব বেড়েছে দলে। তাই এবার কালীপুজোও তিনি করতে চান ধুমধামের সঙ্গে। হারিয়ে জৌলুস ফেরাতে বোলপুরের পার্টি অফিসে প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। মূল আকর্ষণ অবশ্যই মায়ের স্বর্ণালঙ্কার। সেই সঙ্গে ভুরিভোজ তো থাকছেই। অনুব্রতর জেল যাত্রার আগের বছরেও মা কালীকে ৫৭০ ভরি সোনার গয়নায় সাজানো হয়েছিল। এ বছরও তার পরিমাণ বাড়বে নাকি কমবে, তা নিয়ে কেষ্ট ঘনিষ্ঠ কেউ মুখ না খুললেও সূত্রের খবর—সোনার গয়নায় মুড়ে ফেলা হবে কালী মাকে।
জেলায় এখন দলের বিজয়া সম্মিলনির ধুম। সে সব সামলেও পুজোর পুরোভাগে তদারকি করছেন অনুব্রত নিজেই। বলছিলেন, ‘আমার এই পুজোর বয়স ৪০ বছরের কাছাকাছি। বোলপুর পার্টি অফিসের নিচের তলায় এক সময় এই পুজো হতো। পরে মন্দির তুলে নিয়ে যাওয়া হয় দোতলায়। সেখানেই পুজো হয়ে আসছে।’ অবশ্যই তা নিরবচ্ছিন্ন। তবে, অনুব্রতের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সঙ্গে পুজোর বৈভবের লেখচিত্র ওঠানামা করে বলে স্থানীয়দের মত। অর্থাৎ, জেলা রাজনীতিতে অনুব্রতর সুসময়ে পুজোর শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। বেড়েছে মায়ের স্বর্ণালঙ্কারও। ২০২১ সালে সোনার মুকুট, বাউটি, বাজুবন্ধন, কানের দুল, গলার হার, হাতের আংটি, কোমর বিছে মিলিয়ে প্রায় ৫৭০ ভরি সোনার গয়নায় কালী প্রতিমাকে সাজিয়েছিলেন অনুব্রত।
তারপরই ‘গুড়-বাতাসা’র প্রবক্তার গোরু পাচার মামলায় জেল যাত্রা। তাঁকে নিয়ে ইডি-সিবিআইয়ের টানাটানি। দিল্লির তিহার পর্যন্ত যেতে হয়েছে অনুব্রতকে। সেটা ছিল বেশ কঠিন সময়। এবং এতটাই যে, মায়ের গয়নাকেও আতসকাচের তলায় রেখেছিলেন তদন্তকারীরা। কেষ্ট ঘনিষ্ঠদের আশঙ্কা ছিল, এই বুঝি মায়ে স্বর্ণালঙ্কার বাজেয়াপ্ত করা হবে। কিন্তু সেটা শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। বর্তমানে, ইডি-সিবিআই অতীত। দলেও তিনি এখন ভালো অবস্থানে। তাঁর বিকল্প যে জেলা তৃণমূলে আজও কেউ হয়ে উঠতে পারেননি, সেই বার্তা দিয়ে গিয়েছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁকেই কোর কমিটির আহ্বায়ক করেছেন দলনেত্রী। স্বাভাবিকভাবেই পুরনো মেজাজেই ফিরেছেন অনুব্রত। তাই এবারের পুজো নিয়ে বাড়তি উন্মাদনা দলীয় কর্মীদের মধ্যে।
তবে, পুজোর আয়োজনে তিনি সর্বত্র থেকেও যেন নেই! বরাবরের মতো এবারও এমন ভাব নিয়েই সব সামলাচ্ছেন অনুব্রত। বলছিলেন, ‘আগে যেভাবে পুজোর আয়োজন হয়ে এসেছে, এবছরও সেরকমই হবে। মা’য়ের যা গয়না রয়েছে, সবটাই পরানো হবে। আমি নিজে হাতে অবশ্য মা’কে গয়না পরাই না। প্রতিবার যাঁরা মাকে সাজান, তাঁরাই সাজাবেন।’
কেষ্টর পুজোয় আর একটি উপরি পাওনা রয়েছে। কালীপুজোর রাতে এলাকাবাসীর পাশাপাশি যাঁরাই বোলপুর পার্টি অফিসে যাবেন, তাঁরাই মায়ের ভোগ পাবেন। সেই ভোগের পদও নেহাৎ কম নয়। অনুব্রত বলছিলেন, ‘প্রায় তিন হাজার মানুষের ভোগের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে, ইদানীং বসে খাওয়ার লোকজন কমে যাচ্ছে। তাই মাটির সরার ব্যবস্থা করেছি। তাতেই ভোগ দেওয়া হবে। অনেকে সেই ভোগ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে খান। এটাও বেশ ভালো লাগে।’ কেষ্টর অফিসে থাকা দলের সর্বক্ষণের কর্মীদের কথায়, ‘জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন দলীয় কার্যালয়ে আসবেন। প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।’