Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোয় গ্রামের বাড়িতে আসবেন কেষ্ট, সেজে উঠেছে নানুরের হাটসেরান্দি গ্রাম

তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গেই পরিচিতি লাভ করেছে তাঁর গ্রাম। তাঁর হাত ধরেই বিখ্যাত হয়েছে বীরভুমের নানুরের হাটসেরান্দি গ্রামের দুর্গাপুজো।

পুজোয় গ্রামের বাড়িতে আসবেন কেষ্ট, সেজে উঠেছে নানুরের হাটসেরান্দি গ্রাম
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৮:০৯
Prefer us on Google

পিনাকী ধোলে, বোলপুর: তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গেই পরিচিতি লাভ করেছে তাঁর গ্রাম। তাঁর হাত ধরেই বিখ্যাত হয়েছে বীরভুমের নানুরের হাটসেরান্দি গ্রামের দুর্গাপুজো। সেই তিনিই এবছর বাড়ির দুর্গাপুজোয় ফিরছেন নিজের গ্রামে। সময় কাটাবেন নিজের পরিবার, গ্রামের মানুষজনের সঙ্গে। উমার আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই যেন তাঁরই অপেক্ষায় প্রহর গুনছে হাটসেরান্দি।

Advertisement

প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় নানুরের হাটসেরান্দি গ্রামের বাড়িতেই কাটান অনুব্রত মণ্ডল। তবে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে কেষ্ট মোড়লকে ছাড়াই দুর্গাপুজো হয়েছে গ্রামে। সেই সময় গোরু পাচার মামলায় তিনি তিহার জেলে বন্দি ছিলেন। ফিকে হয়ে গিয়েছিল উত্সবের মেজাজ। গত বছর পুজোর আগেই জেলমুক্তি হয় অনুব্রতবাবুর। পুজোয় গিয়েছিলেন গ্রামের বাড়িতেও। তবে গতবারের পুজোয় সেরকম জাঁকজমক ছিল না। তবে, এখন তিনি ফের স্বমহিমায়। জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির কনভেনর (আহ্বায়ক)। তাই এবছর দুর্গাপুজোয় তাঁর বাড়ি ফেরা নিয়ে যেন বাড়তি আবেগ কাজ করছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। 
ওই গ্রামে মোট ১৮টি দুর্গাপুজো হয়। অথচ কয়েক দশক আগেও কতজন তা জানত? কতজনই বা চিনত বীরভূমের নানুরের হাটসেরান্দি গ্রাম? কথাগুলি বলছিলেন ওই গ্রামেরই প্রবীণ বাসিন্দা তথা অনুব্রতবাবুর ছোটবেলার সহপাঠী নীহার ঘোষ। নীহারবাবু বলেন, গত বছর পুজোয় জাঁকযমক সেরকম ছিল না। মোড়লের(কেষ্টবাবুর) একটু অর্থকষ্ট ছিল। তবে, এবছর পুজোয় ধুমধাম করেই হবে। পাঁচদিন ধরেই খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। 
বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, হাটসেরান্দি গ্রামে ১৮টি দুর্গাপুজো হলেও শতাব্দী প্রাচীন মোড়ল বাড়ির দুর্গাপুজো নিয়েই মাতামাতি বেশি। বিশেষ করে কেষ্টবাবু জেলমুক্তির পর আবার ক্ষমতায় আসায়। মঙ্গলবার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একচালার দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। বাড়ির সদস্যরা পুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।  
এদিন মন্দির প্রাঙ্গণেই বসে ছিলেন সুকুমার বাগদি। তিনি বলেন, গ্রামের যা উন্নয়ন হয়েছে সবই কেষ্ট মোড়লের হাত ধরে। পুজোর ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিনই তিনি সকালে আসেন। বিকালে চলে যান। সঙ্গে মেয়ে সুকন্যাকেও নিয়ে আসেন। পুজোয় প্রচুর রাজনৈতিক নেতাও গ্রামে ভিড় করেন। গ্রামে বাসিন্দারা কেষ্টবাবুকে ঘিরে ধরে নিজেদের অভাব অভিযোগের কথা জানান। 
অনুব্রতবাবু বলছিলেন, পুজোয় গ্রামের বাড়িতে যাব। পুজোর প্রতিদিনই যাব। সকালে যাব আর বিকালে বোলপুর ফিরে আসব। ছোটবেলা থেকে গ্রামের পুজো দেখে বড় হয়েছি। গ্রামের প্রতি একটা আলাদা টান তো থাকবেই। গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা হয়। খুব ভালো লাগে। গ্রামের বাসিন্দারা এমনিতে খুব ভালো। সহজ, সরল নিষ্পাপ। আমার গ্রাম্য পরিবেশই ভালো লাগে। পুজোয় প্রত্যেকের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে আশাকরি ভালোই লাগবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ