


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: উদ্বোধনের আগেই ভেঙেচুরে গিয়েছে বাঁকুড়ার কেশরা-কাটজুড়িডাঙা রেল স্টেশন। ওই স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের কংক্রিট ব্লক উঠে গিয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় প্ল্যাটফর্মের ঢালাইয়ের অংশে ফাটল ধরেছে। ওই স্টেশন চালু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রেল টালবাহানা করছিল। আগামীকাল, সোমবার থেকে সেখানে ট্রেন দাঁড়ানোর কথা। আপাতত সেখানে লোকাল ট্রেন থামবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তার আগেই স্টেশনের এই হাল হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তরজা শুরু হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ওই স্টেশন চালুকে বিজেপি প্রচারের হাতিয়ার করতে পারে। বাঁকুড়ায় রেলের বঞ্চনা ও স্টেশনের বেহাল দশাকে পাল্টা প্রচারে আনা হবে বলে তৃণমূল জানিয়েছে। রেলের আদ্রা ডিভিশনের এক আধিকারিক বলেন, ওই স্টেশনে এখনো কাজ চলছে। বেশ কিছুদিন আগে প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। ব্যবহার না হওয়ায় সমস্যা হতে পারে। আমরা কিছু জায়গায় ইতিমধ্যেই মেরামতের কাজ করেছি। বাকি কাজও হয়ে যাবে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যকে আমরা গুরুত্ব দেব। উল্লেখ্য, বাঁকুড়া শহর ও সংলগ্ন কাটজুড়িডাঙা, কেশরা, শালবনী সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের ট্রেন ধরতে দীর্ঘদিন ধরেই অসুবিধা হত। বাড়ির পাশে রেললাইন থাকলেও ট্রেন ধরতে তাঁদের প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে বাঁকুড়া স্টেশন অথবা ১০কিলোমিটার দূরে ছাতনা স্টেশনে যেতে হত। শীত ও বর্ষায় স্টেশনে যাতায়াতে চরম সমস্যা হত। সেই কারণে কেশরা-কাটজুড়িডাঙা এলাকায় রেল স্টেশন নির্মাণের দাবি ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে বাসিন্দারা ওই দাবিতে এলাকার লেভেল ক্রসিংয়ের পাশে আন্দোলন করেন। দাবি পূরণে রেলের বিভিন্ন মহলে ডেপুটেশনের পাশাপাশি অবস্থান, ধরনা, বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে ওই জায়গায় স্টেশন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে স্টেশনটি তৈরির পর দীর্ঘদিন ধরে তা অনাদরে পড়ে থাকার কারণে পরিকাঠামোয় ক্ষতি হয়েছে।
বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রক বাঁকুড়াকে বরাবর বঞ্চিত করে এসেছে। ছাতনা-মুকুটমণিপুর, বাঁকুড়া-মেজিয়া রেল প্রকল্প বিশবাঁও জলে চলে গিয়েছে। কেশরা-কাটজুড়িডাঙা রেল স্টেশনও ভেঙেচুরে গিয়েছে। আগামী দিনেও আমরা রেলের বঞ্চনা বাঁকুড়াবাসীর কাছে তুলে ধরব। বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, তৃণমূলের মুখে বঞ্চনার কথা মানায় না। বাঁকুড়া স্টেশনের আধুনিকীকরণ সহ গত কয়েক বছরে জেলায় রেলের উন্নয়নে অনেক কাজ হয়েছে। বারবার বলা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার বাঁকুড়ায় রেল প্রকল্পের জন্য জমি দেয়নি। ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেল প্রকল্পকে এখনো মৃত ঘোষণা করা হয়নি। প্রতিবারই অল্প অর্থ বরাদ্দ করে সেটিকে জীবিত রাখা হয়েছে। জমি পেলেই প্রকল্প রূপায়িত হবে। কেশরা-কাটজুড়িডাঙা রেল স্টেশনে আপাতত ১০টি লোকাল ট্রেন আপ ও ডাউনে থামবে। স্টেশনের বেহাল অংশ মেরামত করে দেওয়ার জন্য রেলকে বলা হয়েছে।
কেশরা-কাটজুড়িডাঙা রেলস্টেশন উন্নয়ন কমিটির সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় পাল বলেন, যাত্রীদের সুবিধার্থে রেলকে আরও অনেক কাজ করতে হবে। ট্রেনের স্টপের সংখ্যাও যাতে আগামী দিনে বাড়ানো হয় সেই দাবি আমরা রেলকর্তাদের জানাব।