Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাম আমলের হানাহানি উধাও উন্নয়নে ভোল বদলেছে কেশপুরের

বাম আমলে রাজনৈতিক হানাহানির জেরে প্রচুর মানুষ ঘরছাড়া ছিলেন। নির্ভয়ে মতপ্রকাশ করতে পারতেন না গ্রামবাসীরা

বাম আমলের হানাহানি উধাও উন্নয়নে ভোল বদলেছে কেশপুরের
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজদীপ গোস্বামী, কেশপুর: বাম আমলে রাজনৈতিক হানাহানির জেরে প্রচুর মানুষ ঘরছাড়া ছিলেন। নির্ভয়ে মতপ্রকাশ করতে পারতেন না গ্রামবাসীরা। এমনই অবস্থা ছিল কেশপুর পঞ্চায়েতের। কিন্তু গত কয়েকবছরে এই পঞ্চায়েতের ভোল বদলে গিয়েছে। মানুষ যেমন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তেমনই রাজনৈতিক হানাহানি একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, আগে পঞ্চায়েত অফিসে যেতেও তাঁরা ভয় পেতেন। প্রায়দিনই রাজনৈতিক কারণে মারধর, খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠত। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে পঞ্চায়েতে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। এলাকার মানুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী সহ নানা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।
প্রশাসনের আধিকারিকরা জানান, এই পঞ্চায়েতে সলিড ওয়েস্ট ও প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রোজেক্ট শুরু হয়েছে। এর ফলে কেশপুর ব্লকের সমস্ত পঞ্চায়েত তো বটেই, ডেবরা, খড়্গপুরের মানুষও উপকৃত হবেন। কেশপুর পঞ্চায়েতের প্রধান সীতা বরদোলই বলেন, এই পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচুর কাজ হয়েছে। মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নতুন অর্থবর্ষেও নানা প্রকল্প রূপায়িত হবে।
কেশপুরজুড়ে গত কয়েকবছরে তৃণমূলের ভোট বেড়েছে। সারাবছর তো বটেই, ভোটের সময়ও এখানে রাজনৈতিক হানাহানির ছবি দেখা যায় না। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এখানকার ১৬টির মধ্যে ১৫টি আসনে শাসকদল জয়ী হয়। বিজেপি একটি আসন পায়। বুথস্তরে সাংগঠনিক দুর্বলতার জেরেই বিরোধীরা এখানে নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারছে না বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
তৃণমূল গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ের পরই এলাকার উন্নয়নের কাজ জোরকদমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত অর্থবর্ষে ১১টি রাস্তা সংস্কার হয়েছে। এতে প্রায় ৪২লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। ৪৮লক্ষ টাকায় ১২টি নিকাশিনালা তৈরি করা হয়। দু’টি পানীয় জলের প্রকল্পের জন্য প্রায় তিনলক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ৩৮৬টি পরিবার ঘর পাচ্ছে। একহাজারের বেশি মানুষের নাম ওয়েটিং লিস্টে রয়েছে।তবে এখনও কেশপুর পঞ্চায়েতে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। এখনও বেশকিছু রাস্তা বেহাল থাকায় মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। কিছু আইসিডিএস কেন্দ্রও বেহাল। বন্যার সময় এই এলাকার মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়।পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ শরিফুল আলি বলেন, বাম আমলে আমাদের বাড়ির লোকজনও প্রায় ১২বছর ঘরছাড়া ছিল। সিপিএমের অত্যাচারের সেই ভয়াবহ অধ্যায় মানুষ এখনও ভুলতে পারেননি। পঞ্চায়েত এলাকায় মানুষের সমস্যা তাড়াতাড়ি সমাধানের চেষ্টা চলছে। কেশপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজা বলেন, ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েতের মধ্যে কেশপুর পঞ্চায়েত অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। মানুষও উন্নয়নের সঙ্গেই থাকবেন।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ