সংবাদদাতা, সিউড়ি: সিউড়ির কড়িধ্যার বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতে চারটি উপসমিতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দখল করল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার ভোটাভুটির মাধ্যমে এই অনাস্থা ভোটের সঞ্চালক নির্বাচন হয়। যদিও সেই ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করেনি পঞ্চায়েতের নির্বাচিত বিজেপি সদস্যরা। এদিন কড়িধ্যা পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পঞ্চায়েতের চারটি উপ সমিতি অর্থাৎ শিল্প পরিকাঠামো, নারী ও শিশু সুরক্ষা, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিকাশ এবং শিক্ষা বিভাগের সঞ্চালক পদের ভোটাভুটি হয়।
Advertisement
গত ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই কড়িধ্যা পঞ্চায়েত তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল বিজেপি। পঞ্চায়েতের ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসনের মধ্যে ন’টি আসনে জয়লাভ করেছিল গেরুয়া শিবির। সেই সঙ্গে পঞ্চায়েত সমিতির তিনটি আসনের মধ্যে দুটিই ছিল গেরুয়া শিবিরের দখলে। তাই এই গ্রাম পঞ্চায়েত চলে গিয়েছিল বিজেপির দখলে। বিজেপির জয়ী সদস্যদের নিয়ে পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করেছিল তারা। কিন্তু পরবর্তীকালে গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতি মিলিয়ে বিজেপির মোট চারজন সদস্য তৃণমূলে যোগদান করে। তাই তৃণমূলের পাল্লা অনেকখানি ভারী হয়ে যায় বিজেপির তুলনায়। এরপরই বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত এলাকার উন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছে এই অভিযোগ তুলে গত কয়েকদিন আগে পঞ্চায়েতের উপ সমিতি পদের জন্য অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আসে তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, এলাকার মানুষকে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এই কড়িধ্যা পঞ্চায়েতকে মডেল পঞ্চায়েত তৈরি করবে। কিন্তু স্থানীয় সমস্যা কিছুই মেটেনি এই দেড় বছরে। কড়িধ্যা এলাকায় পথবাতি লাগানোর জন্য তৃণমূলের তরফে একাধিকবার দাবি তোলা হলেও সেই দাবিকে মান্যতা দেয়নি গেরুয়া শিবির। কিন্তু তৃণমূলের পাল্লা ভারী হলেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আড়াই বছরের আগে পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান বদলের জন্য অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে না বিরোধীরা। তাই প্রাথমিকভাবে পঞ্চায়েতের উপ সমিতিগুলিতে সঞ্চালক পদের জন্য অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে এসেছে ঘাসফুল শিবির। সোমবার এই সঞ্চালক পদের জন্য তৃণমূলের ১৩ জন সদস্য ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু অপরপক্ষে বিজেপির কোনও সদস্য ভোটাভুটিতে অংশ না নেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে তৃণমূল কংগ্রেস। অর্থাৎ এক প্রকার আংশিকভাবে এই পঞ্চায়েত গেরুয়া শিবিরের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হল ঘাসফুল শিবির। এদিন ভোটাভুটিতে জয়লাভের পর আবির খেলায় মেতে ওঠেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। পঞ্চায়েতের জয়ী সদস্যদের গলায় মালা পরিয়ে অভ্যর্থনা জানান কর্মী সমর্থকরা।
পঞ্চায়েতের তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ভোটের সময় বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের অনেক আশা ভরসা দিয়েছিল। কিন্তু ওদের পঞ্চায়েত সদস্যরা উন্নয়নের কোনও কাজকর্ম সম্পর্কে কোনও ধারণা রাখে না। তারা জানেই না কীভাবে পঞ্চায়েতের কাজ করতে হয়। সেই কারণেই ওদের চারজন সদস্য তৃণমূলের উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে যোগ দিয়ে দলের হাত মজবুত করেছে। আর সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। পঞ্চায়েতের চারটি সঞ্চালক পদে আমরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছি। বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান বেলা দত্তকে এদিন প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পঞ্চায়েতের তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ভোটের সময় বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের অনেক আশা ভরসা দিয়েছিল। কিন্তু ওদের পঞ্চায়েত সদস্যরা উন্নয়নের কোনও কাজকর্ম সম্পর্কে কোনও ধারণা রাখে না। তারা জানেই না কীভাবে পঞ্চায়েতের কাজ করতে হয়। সেই কারণেই ওদের চারজন সদস্য তৃণমূলের উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে যোগ দিয়ে দলের হাত মজবুত করেছে। আর সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। পঞ্চায়েতের চারটি সঞ্চালক পদে আমরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছি। বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান বেলা দত্তকে এদিন প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।



