Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোচবিহার জেলায় ৮১ পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে

কোচবিহার জেলায় ৮১ পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পড়ুয়াদের ট্যাবের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সেই আবহেই এবার যোগ হল কোচবিহার জেলাও। কোচবিহারে এখনও পর্যন্ত মোট ৮১টি এমন ঘটনা নজরে এসেছে। যারমধ্যে শুধুমাত্র পুন্ডিবাড়ি আর জি এল হাইস্কুলেরই ৫০ জনের বেশি পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তারা বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ব্যাঙ্কে গিয়েই তারা জানতে পেরেছে বহু পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে যাওয়ার পাশাপাশি কিছু টাকা বিহারেও চলে গিয়েছে। এই সমস্ত বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা, ব্যাঙ্ক, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকরা। 
Advertisement
গরিব পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার টাকা কীভাবে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে না ঢুকে অন্যজনের অ্যাকাউন্টে চলে গেল, তা নিয়ে রীতিমতো ধন্দে রয়েছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। তবে স্কুলগুলি আশাবাদী, সরকার ‘বেহাত’ হওয়া টাকা উপভোক্তা পড়ুয়াদের নিশ্চয় ফিরিয়ে দেবে। 
কোচবিহার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) সমরচন্দ্র মণ্ডলও ট্যাবের টাকা অন্যত্র চলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে আরও কোনও পড়ুয়ার টাকা এভাবে অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে কি না সেই বিষয়ে খোঁজ চলছে বলে জেলা শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। পুন্ডিবাড়ি আর জি এল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অলোকচন্দ্র ভাট বলেন, আমাদের স্কুলের ৫০ জনেরও বেশি ছাত্রের অ্যাকাউন্টে রাজ্যের দেওয়া ট্যাবের টাকা ঢোকেনি। তাদের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। এর মধ্যে উত্তর দিনাজপুর জেলা যেমন রয়েছে, তেমনই বিহারও রয়েছে। আমাদের পড়ুয়াদের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ওই  ব্যাঙ্কের ম্যানেজারদের জানানো হয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টি শিক্ষাদপ্তরকেও জানিয়েছি। আশা করি, উপভোক্তারা বঞ্চিত হবে না। 
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) বলেন, আমাদের জেলায় এখনও পর্যন্ত ৮১ জন পড়ুয়ার খোঁজ পেয়েছি যাদের ট্যাবের টাকা অন্যত্র চলে গিয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ টাকাই উত্তর দিনাজপুরে গিয়েছে। বিহারেও কিছু গিয়েছে। আরও কোনও পড়ুয়ার ট্যাব কেনার টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে গিয়েছে কি না তারও খোঁজ চলছে। 
স্কুলের পড়ুয়াদের পড়াশোনার সুবিধার্থে ও তাদের উৎসাহিত করতে সরকার ট্যাব কেনার জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেয়। পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি সেই টাকা চলে আসে। কিছু দিন আগেই বিষয়টি সামনে আসে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পড়ুয়াদের ওই ট্যাব কেনার টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে না ঢুকে অন্য কোনও অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এবার কোচবিহার জেলাতেও বিষয়টি সামনে এসেছে। আর সেই সংখ্যাও নেহাত কম নয়।  
সম্পর্কিত সংবাদ