Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাত পোহালেই কৌশিকী অমাবস্যা, কড়া নিরাপত্তার চাদরে তারাপীঠ! উড়বে নজরদারি ড্রোন, ২৭০০ পুলিসকর্মী মোতায়েন

রাত পোহালেই তারাপীঠের সব থেকে বড় উৎসব কৌশিকী অমাবস্যা। আর এই তিথি উপলক্ষে সাজছে তারাপীঠ। আজ বৃহস্পতিবার থেকেই দূর-দূরান্তের সাধু ও পুণ্যার্থীরা এখানে চলে আসবেন বলে দাবি মন্দির কমিটির।

রাত পোহালেই কৌশিকী অমাবস্যা, কড়া নিরাপত্তার চাদরে তারাপীঠ! উড়বে নজরদারি ড্রোন, ২৭০০ পুলিসকর্মী মোতায়েন
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রাত পোহালেই তারাপীঠের সব থেকে বড় উৎসব কৌশিকী অমাবস্যা। আর এই তিথি উপলক্ষে সাজছে তারাপীঠ। আজ বৃহস্পতিবার থেকেই দূর-দূরান্তের সাধু ও পুণ্যার্থীরা এখানে চলে আসবেন বলে দাবি মন্দির কমিটির। অত্যাধিক ভিড়েও যাতে পুণ্যার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে দেবীকে দর্শন ও পুজো দিতে পারেন সেজন্য বাঁশের ব্যারিকেড করা হচ্ছে। ফুল ও আলোক মালায় সাজিয়ে তোলা হবে গোটা মন্দির চত্বর। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আজ রাত থেকেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়তে চলেছে গোটা তারাপীঠ। তারাপীঠের প্রবেশপথের তোরণ মেরামত করে আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে।

Advertisement

কথিত আছে, দেবী তারার অপর নাম কৌশিকী। শুম্ভ নিশুম্ভকে বধ করতে দেবী নিজ দেহকোষ থেকে বের হয়ে আর এক দেবীমূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। অন্যদিকে এইদিনই তারাপীঠ মহাশ্মশানে শ্বেতশিমূল বৃক্ষের তলায় সাধক বামাক্ষ্যাপা সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। তাই বিশেষ এই তিথিতে পুণ্যলাভের আশায় ফিবছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী এখানে আসেন। ভিড় সামাল দিতে কালঘাম ছোটে পুলিস ও মন্দির কমিটির। 
এবছর আগামী শুক্রবার দুপুরে এই তিথি শুরু হচ্ছে। থাকবে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত। শুক্রবার ভোর ৪টেয় দেবীকে স্নান ও মঙ্গলারতির পর গর্ভগৃহ খুলে দেওয়া হবে। তিথি শুরু হতেই তারাঅঙ্গে দেবী কৌশিকীর পুজো শুরু হয়ে যাবে। সন্ধ্যায় স্বর্ণালঙ্কার পরিয়ে দেবী তারাকে রাজবেশে সাজিয়ে তোলা হবে। মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, এবার প্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি ভক্ত সমাগম ঘটবে। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ভক্তদের পুজো দেওয়ার লাইন বাঁশের ব্যারিকেড করে ঘিরে দেওয়া হচ্ছে। সারাবছর মন্দিরে ১০০ জন নিরাপত্তা কর্মী থাকেন। কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০০ করা হয়েছে।
একইভাবে গোটা মন্দির চত্বর ও ভিআইপি রাস্তার পূর্ব সাগরের মোড় পর্যন্ত সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। পুলিসের পক্ষ থেকে গোটা তীর্থভূমিকে সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। পুজো দেওয়ার জন্য থাকছে সাধারণ, বিশেষ ও প্রোটোকল লাইন। মন্দির চত্বরেই থাকছে মেডিক্যাল ক্যাম্প, অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা।  জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা হতেই মন্দিরের চেহারা পাল্টে যাবে। নানা রঙের আলোর ছটা গর্ভগৃহের দেওয়ালে ফেলা হবে। সেই সঙ্গে গোটা মন্দির চত্বর ফুল ও আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হবে। অন্যদিকে পুলিসের পক্ষ থেকে তারাপীঠের জনবহুল মোড়গুলিতে ওয়াচ টাওয়ারের পাশাপাশি জায়েন্ট স্ক্রিন লাগানো হচ্ছে। যারা ভিড়ের জন্য মন্দিরে ঢুকতে পারবেন না তাঁরা এই জায়েন্ট স্ক্রিনে মাধ্যমে দেবীর পুজো ও আরতি দেখতে পারবেন। সেই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ২৭০০ পুলিস কর্মী। ১০টি ওয়াচ টাওয়ার, ৩৭টি ড্রপগেট ও একাধিক অ্যান্টি ক্রাইম টিম থাকবে। এছাড়াও থাকবে র‌্যাফ ও সাদা পোশাকের পুলিস। পুণ্যার্থীরা কোনও সমস্যায় পড়লে যাতে তড়িঘড়ি পুলিসকে জানাতে পারেন সেজন্য ২১টি পুলিস সহয়তা বুথ করা হবে। ড্রোন ক্যামেরার মধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। এর মধ্যে শ্মশান, মন্দিরের প্রবেশ ও প্রস্থান গেট, মুণ্ডমালিনীতলা ও বামদেব ঘাটে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে বলে পুলিস জানিয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ব্যবস্থা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাত ২টোর পর থেকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শিশুদের পকেটে অভিভাবকের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লেখা কাগজ রেখে দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে পুলিস। যাতে হারিয়ে গেলে সহজেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ