সংবাদদাতা, কাটোয়া : আজও তারাপীঠের বামাখ্যাপার বংশধরদের হাতেই পুজিত হন কাটোয়ার পাগলি মা কালী। শহরের বাজারের ঘাটে প্রতি বছরের মতো এবারও অগ্রহায়ণ মাসের অমাবস্যা তিথিতে পাগলি মায়ের পুজো হচ্ছে। এখনও রীতি অনুযায়ী শ্মশানঘাট থেকে বাঁশ নিয়ে মণ্ডপ বাঁধতে হয়। বুধবার থেকে এই মায়ের পুজো ঘিরে উন্মাদনা শুরু হয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। পুজো কমিটির সম্পাদক সোমনাথ সাহা বলেন, এবারও নিয়ম মেনেই পাগলি মা কালীর পুজো হচ্ছে। পুজো উপলক্ষ্যে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়ে থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৫১ বছরের বেশি সময় ধরে পাগলি মা কালীর পুজো হয়ে আসছে কাটোয়া শহরে। কথিত আছে, স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিন বন্ধু কাটোয়ার ভাগীরথীর ঘাটে পাগলি মা কালীর পুজো শুরু করেন।
কাটোয়ার পাগলি মা কালীর পুজোর নেপথ্যে এক রোমহর্ষক কাহিনী রয়েছে। শোনা যায়, বাংলার ১৩৭৪ সালে অনিল দাস, বৈদ্যনাথ সাহা ও তারা দাস নামে তিন বন্ধু একদিন কাটোয়ায় ভাগীরথীতে স্নানে নেমেছিলেন। স্নান করার সময় জলের স্রোতে ভেসে আসে খড়, বাঁশ কাঠ দিয়ে তৈরি একটি কালীমূর্তির কাঠামো। গঙ্গার স্রোতে তিনজনের কাছে ওই পাটাতনটি চলে আসে। তাঁরা কপালে হাত ঠেকিয়ে কাঠামোটি জলে ঠেলে দেন যাতে স্রোতে ভেসে চলে যায়। কিন্তু যতবার তাঁরা কাঠামোটি সরানোর চেষ্টা করেন ততবারই তাঁদের কাছে চলে আসে! সেদিন অনিলবাবু ওই পাটাতনটি তুলে নদীর পাড়ে রেখে দেন। এরপর তিনবন্ধু বাড়ি চলে যান।
ওই রাতেই অনিলবাবু স্বপ্নাদেশ পান মায়ের। তারপর তাঁরা তিন বন্ধুই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। পরের দিন সকালে সোজা তাঁরা চলে যান তারাপীঠ। সেখানে গিয়ে তাঁরা সাধক বামাখ্যাপার উত্তরসূরি উমাপদ রায়ের সঙ্গে দেখা করে সব ঘটনার কথা খুলে বলেন। সব কথা শুনে উমাপদবাবুই তাঁদের ওই কাঠামোতেই কালীপুজো করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উমাপদবাবু নিজেই পুজোর সিদ্ধান্ত নেন। সেই থেকে বামাখ্যাপার বংশধর সুখেন্দুবিকাশ রায়ই এই পুজোর পুরোহিত।
এই পাগলি মা কালীর পুজো সাধারণ মণ্ডপে হয় না। নিয়ম রয়েছে শ্মশানঘাটের আধপোড়া কাঠ ও ফেলে যাওয়া শবদেহ বাঁধার দড়ি দিয়ে পাগলি মা কালীর মণ্ডপ বাঁধতে হয়। তন্ত্রমতেই পুজো হয় মায়ের। -নিজস্ব চিত্র