সংবাদদাতা, কাটোয়া: কনকনে ঠান্ডায় মানুষ যখন লেপের উষ্ণ আলিঙ্গন ছেড়ে বেরতে ভয় পায়, তখন খোলা মাঠে খড়ের কুঁড়ে বানিয়ে রাত কাটাচ্ছেন ভিন জেলার বহু মানুষ। ওঁদের জীবিকা মাঠে মাঠে ধান কোড়ানো। ধানের জমি থেকে শিষ কুড়িয়ে তা থেকে ধান সংগ্রহ করেন ওঁরা। তা বিক্রি করেই তাঁদের সংসার চলে। অগ্রহায়ণ শেষ হলেই গ্রামীণ এলাকার মাঠ ফাঁকা হয়ে যায়। আমন ধান ঘরে উঠে যায়। মাঠে পড়ে থাকে ধানের শিষ। সেই শিষ থেকে ধান ঝেড়ে সংগ্রহ করেন তাঁরা। প্রতিদিন মাঠে মাঠে ঘুরে শিষ থেকে যা ধান সংগ্রহ হয়, তাতে কয়েকটি বস্তা মাত্র ভরে। সেটাই রুটিরুজি বহু পরিবারের। ফাঁকা মাঠে খড়ের কুঁড়েতে রেঁধেবেড়ে খেয়ে চাদর জড়িয়ে রাত কাটে। কেতুগ্রামের শিবলুন গ্রামে ভিন জেলা থেকে বহু মানুষ এসে তাঁবু গেড়েছেন। কারও জমি নেই। তাঁরা লোকের জমি ভাগ চাষ করেন। ধান কাটার মরশুম শেষ হলেই পরিবার নিয়ে মাঠে মাঠে ধানের শিষ কুড়োতে বেরিয়ে পড়েন। নদীয়া জেলার করিমপুরের বাসিন্দা নির্মল রায় তাঁর স্ত্রী সোহাগীদেবীকে নিয়ে কেতুগ্রামে এসেছেন। তিনি বলেন, আমি দশ বছর ধরে পরিবার নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার সাটুই এলাকায় থাকি। এখানে একদিনে অর্ধেক বস্তা ধান সংগ্রহ হয় শিষ কুড়িয়ে। কয়েকদিন থাকব, পাঁচ-ছ’ বস্তা ধান হলেই এই মাঠ ছেড়ে আবার অন্য মাঠে থাকব। এটাই আমাদের ভরসা। সোহাগী দেবী খড়ের কুঁড়ে থেকে মুখ বাড়িয়ে বলেন, ধানের শিষ কুড়িয়েই জীবনের অর্ধেকটা কেটে গেল। এই আয় থেকেই তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম।



