সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার ত্রাস কুখ্যাত দুষ্কৃতী জঙ্গলকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমের মশলা সাপ্লাই করত বর্ধমান শহরের একটি চক্র৷ তারা গ্যাংয়ের আগ্নেয়াস্ত্রও মজুত রাখত বর্ধমানে। সেই চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম সুমন গঙ্গোপাধ্যায়। তার বাড়ি বর্ধমান শহরের বিজয়রাম এলাকায়। ধৃতের কাছ থেকে দু’টি গুলি ভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার তাকে কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক ১২ দিন পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বোলপুরে জঙ্গল গ্যাংয়ের দুই বিশ্বস্ত সঙ্গীকে ডেকে তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়েছিল আরেক জঙ্গল অনুগামী কিতাবুল শেখ ওরফে তারকাটা। জঙ্গল ও ছেলে সাদ্দামের নির্দেশেই দুই বিশ্বস্ত সঙ্গীর মাধ্যমে কাটোয়ায় মজুত করেছিল আগ্নেয়াস্ত্র। ওই বছরেরই ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে কাটোয়া শহরের কেশিয়া মাঠপাড়া এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গলের দুই সঙ্গী রমজান শেখ ও রফিক শেখকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। তাদের কাছ থেকে দু’টি দেশি পাইপগান ও পাঁচশ গ্রাম বারুদ ও মশলা উদ্ধার করা হয়েছিল৷ তারা জানিয়েছিল, জঙ্গল ও সাদ্দামের নির্দেশে রমজান ও রফিক শেখ বোলপুর যায়। সেখানেই তারা জঙ্গলের আরেক শাগরেদ কিতাবুল শেখ ওরফে তারকাটার সঙ্গে দেখা করে৷ তারকাটা তাদের হাতে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দেয়। জঙ্গলের নির্দেশ ছিল ওই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি কাটোয়া ও নদীয়া জেলায় জঙ্গল গ্যাংয়ের বাকি সদস্যদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। কিছুদিনের মধ্যেই জঙ্গল ও সাদ্দাম কাটোয়ায় ঢুকত। শহরে খুন, লুটপাট সহ বড়সড় হামলার পরিকল্পনা ছিল। তখন ওই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি কাজে লাগাত। সেই মামলাতে ১৪ আগস্ট রাতে নদীয়ার একটি নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে জঙ্গল পুত্র দুষ্কৃতী সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই ২৮ আগস্ট জঙ্গলকে উত্তরবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করে। জঙ্গলের থেকেই সুমনের খোঁজ পায় পুলিস।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের খাগড়াগড়ের একটি গ্যাং জঙ্গলকে নিয়মিত আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমের মশলা সাপ্লাই দিত। সুমন ওই গ্যাংয়ের মূল চক্রী। তার আসল বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় হলেও বর্ধমান শহরে বাড়ি ভাড়া করে থাকত৷ জঙ্গলের গ্যাংয়ের বাকি সদস্যকে আগ্নেয়াস্ত্র সাপ্লাই দিত সে৷ রাজুয়া বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃত মূল চক্রী তুফানের খাগড়াগড়ে যাতায়াত ছিল৷ তাই ওই ঘটনার সঙ্গে ধৃতের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা পুলিস তদন্ত করে দেখছে। কাটোয়ায় ধৃতকে আদালতে তোলা হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র