সংবাদদাতা, কাটোয়া: পুজোর আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জোরকদমে মণ্ডপ গড়ার কাজ চলছে। কার্যত বৃষ্টিই এবার অসুর। দফায় দফায় বৃষ্টিতে নাজেহাল হচ্ছেন ডেকোরেটার কর্মী থেকে থিমশিল্পীরা। দর্শনার্থীদের দেখার জন্য তৈরি মণ্ডপের সূক্ষ্ম কারুকাজ ভিজছে বৃষ্টিতে। উদ্যোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
কাটোয়া মহকুমায় ৫০০-র বেশি দুর্গাপুজো হয়। তারমধ্যে প্রায় ১০০টি পুজো বিগ বাজেটের। বেশ কয়েকটি বড় মণ্ডপ হচ্ছে। থার্মোকল, প্লাইউড সহ নানা সামগ্রী দিয়ে কাজ চলছে। এরমধ্যেই বৃষ্টির জেরে শিল্পীদের নাকাল হতে হচ্ছে। বৃষ্টিতে প্লাইউড ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফোম দিয়ে মণ্ডপের সূক্ষ্ম কারুকাজ তুলে ধরা হচ্ছে। বৃষ্টির জল পেয়ে সেগুলি চুপসে যাচ্ছে। পুজোর চারদিনও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তাতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে। তাঁদের একটাই বক্তব্য, লক্ষ লক্ষ ব্যয়ে দুর্গাপুজোর জন্য থিমের মণ্ডপ গড়ে তুলেছি। বৃষ্টিতে কাজের খুব ক্ষতি হচ্ছে। পুজোর চারদিন বৃষ্টি হলে কী হবে তা ভেবে ভয় হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ টাকার মণ্ডপ জলে যাবে। কাটোয়া ননগরে এক পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ সাহা বলেন, এবার বৃষ্টিই অসুর। দফায় দফায় যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে কাজ করা যাচ্ছে না। এখনও মণ্ডপ সাজানোর ২০শতাংশ কাজ বাকি রয়েছেো। ঠিক সময়ে শেষ করতে পারব কিনা দুশ্চিন্তা হচ্ছে। কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের আর এক পুজো উদ্যোক্তা সুব্রত মজুমদার বলেন, কাপড়ের মণ্ডপ বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে। তার উপর আলোর কাজ করা যাচ্ছে না। শর্ট সার্কিটের ভয় থাকছে। কেতুগ্রামের থিম শিল্পী জগন্নাথ পাল বলেন, মণ্ডপে সূক্ষ্ম কারুকাজ বৃষ্টির জলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মিস্ত্রিকে বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। কাজ এগচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আমাদের আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হবে। মৃৎশিল্পীদেরও একই অবস্থা। দাঁইহাটের মৃৎশিল্পী মন্মথ পাল বলেন, প্রতিমা গড়ার কাজ শেষ। এখন সাজানো হচ্ছে। বৃষ্টিতে প্রতিমার গায়ে জল ঠেকছে। রং গলে যাচ্ছে। প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখতে হচ্ছে। তাতেও ফাঁক দিয়ে জল ঢুকছে। বারবার প্রতিমার গায়ে রং করতে হচ্ছে।
কাটোয়ার জাজিগ্রামে ত্রিপল টাঙিয়ে থিমের মণ্ডপ গড়ার কাজ করছেন শিল্পী।-নিজস্ব চিত্র