Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নববর্ষে কাটোয়ার ছাঁচের লক্ষ্মী-গণেশের চাহিদা ভিনজেলাতেও

নববর্ষে হালখাতার পুজোর জন্য ছাঁচের লক্ষ্মী-গণেশের চাহিদা বেড়েছে কাটোয়ায়।

নববর্ষে কাটোয়ার ছাঁচের লক্ষ্মী-গণেশের চাহিদা ভিনজেলাতেও
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: নববর্ষে হালখাতার পুজোর জন্য ছাঁচের লক্ষ্মী-গণেশের চাহিদা বেড়েছে কাটোয়ায়। শহরের মহিলাদের হাতে তৈরি ছাঁচের লক্ষ্মী-গণেশ অন্য জেলাতেও পাড়ি দিচ্ছে। কাটোয়ার পানুহাট থেকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার বাজারে কয়েকহাজার লক্ষ্মীপ্রতিমা সরবরাহ করা হয়েছে। যে মহিলারা এই প্রতিমা তৈরি করেন, বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের মুখে হাসি ফুটেছে।

Advertisement

কাটোয়া শহরের পানুহাটের বসন্তপল্লির বধূ লক্ষ্মী পাল, তাঁর মেয়ে মৌলি পাল, শাশুড়ি অনীতা পাল, স্থানীয় বধূ মিঠাই ঘোষ, পম্পা পাল, দাঁইহাটের প্রতিমা পাল বাড়িতেই ছাঁচের লক্ষ্মীপ্রতিমা তৈরি করেন। ছাঁচের লক্ষ্মী-গণেশ তৈরি করেই তাঁদের সংসারের হাল ফিরেছে। একটা সময় লক্ষ্মী পালের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল। তাঁর স্বামী ভোলানাথবাবু সোনার দোকানে কাজ করতেন। ওই বধূর শ্বশুর শীতল পাল মাটির ভাঁড়, অল্পস্বল্প মাটির প্রতিমা তৈরি করে কোনওরকমে সংসার চালাতেন। পুজোপার্বণ এলে টাকার বড়ই অভাব দেখা দিত। তাই সংসারের হাল ধরতে লক্ষ্মীদেবী প্রথমে শ্বশুরের মতোই মাটির ভাঁড় তৈরি শুরু করেন। এরপর ছাঁচের নানা মাটির প্রতিমা তৈরি করে বিক্রি শুরু করেন। পরে ছাঁচের লক্ষ্মী-গণেশ তৈরি শুরু করেন। সেই প্রতিমার চাহিদা হু হু করে বাড়তে থাকে। এখন বাড়িতে হাজার হাজার ছাঁচের লক্ষ্মী-গণেশ তৈরি করেন ওই বধূ। প্রতিমা তৈরি, রঙ করা, চোখ আঁকা, ডাকের সাজ পরানো-সবই নিজে হাতে করেন। তাঁর হাতে তৈরি লক্ষ্মীপ্রতিমা এখন কাটোয়া ছাড়াও মুর্শিদাবাদ, নদীয়া প্রভৃতি জেলায় পাড়ি দেয়।
লক্ষ্মীদেবী বলেন, আমি কালনা শহরে পালপাড়ায় বড় হয়েছি। তাই মাটির প্রতিমা তৈরি করা আমার রক্তে আছে। এখন আমার তৈরি লক্ষ্মী ও গণেশ প্রতিমা অন্য জেলাতেও যায়। এবছর চাহিদাও বেড়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় দেড়হাজার লক্ষ্মী-গণেশ প্রতিমা জোগান দিয়েছি। এখনও বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আসছেন।
ভোলানাথবাবু বলেন, সাতবছর আগে আমার বাবা মারা গিয়েছেন। স্ত্রীই প্রতিমা তৈরি করে। আমি তাঁকে সাহায্য করি। এখন বাড়িতে প্রতিমা তৈরির ছোটখাট কারখানা তৈরি করেছি।
অপর মৃৎশিল্পী মিঠাই ঘোষ বলেন, সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা ছিল। স্বামী প্রতিমা তৈরি করেন। আমি ছাঁচের মূর্তি তৈরি শুরু করি। নববর্ষের মরশুমে প্রচুর লক্ষ্মী-গণেশ তৈরি করেছি। দাঁইহাটের মৃৎশিল্পী প্রতিমা পাল বলেন, আমরা বরাবরই ছাঁচের নানা দেবদেবীর মূর্তি তৈরি করি। সেটা মরশুম অনুযায়ী হয়। এখন লক্ষ্মী-গণেশের প্রতিমা তৈরি করছি। এর আগে সরস্বতী প্রতিমা তৈরি করেছি। কাটোয়ার পম্পা পাল বলেন, আমার তৈরি ছাঁচের মূর্তি বিভিন্ন জেলায় যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ