সংবাদদাতা, কাটোয়া: কুকুরের তাণ্ডবে অতিষ্ট কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল। রবিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে চারটি কুকুর আচমকা আক্রমণ চালায়। অন্তত ১০ জনকে চারটি কুকুর হিংস্রভাবে কামড়েছে। হাসপাতাল কর্মী, অ্যাম্বুলেন্স চালক থেকে রোগীর বাড়ির আত্মীয়, বাদ যাননি কেউই। প্রত্যেককেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কে ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন চিকিৎসক থেকে নার্স। এমনকি, রোগীর বাড়ির আত্মীয়রাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, চারটি কুকুর আচমকা যাকে সামনে পাচ্ছে কামড়াচ্ছে। ১০ জনকে কামড়েছে। আমরা পুরসভাকে জানিয়েছি। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের উপর মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলার একাংশের মানুষ নির্ভরশীল। তাই প্রতিদিন রোগীর চাপ সামলাতে কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। এখন প্রতিদিন তিন জেলার মানুষ আসছেন নথি সংশোধন করাতে। ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র সংগ্রহ করার হিড়িক পড়ে গিয়েছে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ডিজিটাল শংসাপত্র নিতে ৩০০-৪০০ মানুষ ভিড় করছে। এমন অবস্থায় এদিন আচমকা চারটি কুকুর হাসপাতালে ছুটে এসে মানুষজনকে আক্রমণ করছে। কাউকে আঁচড়ে দিয়েছে। আবার কাউকে পায়ে কামড়ে দিয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স চালক কার্তিক মাঝি বলেন, সবেমাত্র গাড়ির কাছে যেতেই একটি কালো কুকুর ছুটে এসে আমাকে কামড়ে দিয়েছে। তৎক্ষণাৎ ভ্যাকসিন নিই। হাসপাতালের নৈশপ্রহরী মিঠুন মণ্ডল ইমার্জেন্সির কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁকেও কামড় খেতে হয়। তিনি বলেন, এতদিন হাসপাতালে কাজ করছি। খোদ হাসপাতালেই কুকুরের কামড় খেতে হবে, ভাবিনি। হাসপাতালে আয়ার কাজ করেন সুলেখা বৈরাগ্য। এদিন ইমার্জেন্সি গেট দিয়ে নীচে নামতেই তাঁর উপর কুকুরে আক্রমণ চালায়। রোগীর পরিজন শিখা দত্ত বলেন, আমার এক আত্মীয় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দেখতে এসেছিলাম। আমাকেও কুকুরে কামড়েছে। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের নার্স সুতপা পাল বলেন, বাইরে কুকুরের পাল ঘোরাঘুরি করছে। ডিউটি সেরে কোয়ার্টারে কীভাবে ফিরব, ভাবছি।কাটোয়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমলাকান্ত চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি আমাকে সুপার জানিয়েছেন। আমরা প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরকে জানাব। কী করা যায়, দেখছি।
কাটোয়া মহকমা হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছে সারমেয়। -নিজস্ব চিত্র।