Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুরে তরুণ সঙ্ঘ ব্যায়ামাগারের শোভাযাত্রায় প্রধান আকর্ষণ ‘কাটাপ্পা’

মেদিনীপুর শহরের তরুণ সঙ্ঘ ব্যায়ামাগারের শোভাযাত্রা ঘিরে উন্মাদনায় ভাসলেন শহরবাসী।

মেদিনীপুরে তরুণ সঙ্ঘ ব্যায়ামাগারের শোভাযাত্রায় প্রধান আকর্ষণ ‘কাটাপ্পা’
  • ১৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মেদিনীপুর শহরের তরুণ সঙ্ঘ ব্যায়ামাগারের শোভাযাত্রা ঘিরে উন্মাদনায় ভাসলেন শহরবাসী। রামনবমী উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই শোভাযাত্রায় ওড়িশার কালাহান্ডির ‘কাটাপ্পা’ ছিলেন বিশেষ আকর্ষণ। দীর্ঘকায় কাটাপ্পাকে দেখতে বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। এই শোভাযাত্রায় মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরা, মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

ক্লাবের সদস্যরা জানান, এবছর শোভাযাত্রায় রেকর্ড ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। সংস্কৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি খেলাধুলো জগতের বহু মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শোভাযাত্রাটি খাপ্রেলবাজারে ক্লাবপ্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়। এরপর এলআইসি মোড়, পঞ্চুর চক, বটতলা চক, নানুর চক হয়ে ক্লাব প্রাঙ্গণে ফিরে আসে। ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক নন্দলাল ভকত ও শান্তনু চক্রবর্তী বলেন, প্রতিবছর এই শোভাযাত্রা হয়।১৯৮০ সাল নাগাদ তরুণ সঙ্ঘ ব্যায়ামাগারের সূচনা হয়। সেই সময় খাপ্রেলবাজার এলাকায় বসবাসকারী বেশিরভাগ পরিবারই নিম্নমধ্যবিত্ত ছিল। স্থানীয়দের মধ্যে শরীরচর্চা ও খেলাধুলোর প্রসার ঘটাতে এই ক্লাবের সূচনা হয়েছিল। এখন ক্রীড়াজগতে এই ক্লাব সুনাম অর্জন করেছে। ক্লাবের উদ্যোগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের নানা প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। ম্যারাথন, ভলিবল, বডিবিল্ডিং, মেয়েদের ফুটবলের মতো নানা খেলার চর্চা হয়। সূচনার সময় থেকেই ক্লাবের তরফে রামনবমী উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা হচ্ছে। প্রতিবছর শোভাযাত্রায় নিত্যনতুন চমক দেওয়ার চেষ্টা করেন ক্লাবের সদস্যরা। 
ক্লাবের ক্রীড়াবিভাগের সম্পাদক তপন ভকত বলেন, খেলাধুলো আমাদের প্রাণ। ক্লাব প্রাঙ্গণে খেলাধুলোর পরিবেশ অটুট রয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার দুঃস্থ পরিবারের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নানাভাবে সহযোগিতা করা হয়। ক্লাবের সদস্য সঞ্জয় পাল ও প্রকাশ দাস বলেন, খেলাধুলোর উন্নতির জন্য পুরুলিয়া, বাঁকুড়া জেলাতেও আমরা শিবির করেছি। এই ক্লাব থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বহু খেলোয়াড় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁরা আমাদের ক্লাবের গর্ব। শুধু খেলাধুলো নয়, এই ক্লাব বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজেও অগ্রণী। ক্লাবের তরফে প্রতিবছর স্বাস্থ্যশিবির হয়। প্রতিবছর দু’বার করে রক্তদান ও বস্ত্র বিলি করা হয়। করোনা সঙ্কটে এই ক্লাবের সদস্যরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় তাঁরা বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় খাবার, ওষুধ বিলি করেন। সেই উদ্যোগ এখনও মনে রেখেছেন শহরবাসী। এদিন ক্লাবের সদস্য রাজু চৌধুরী, আশিস ভকত, সৌভিক ভকত বলেন, মানুষের পাশে থাকাই আমাদের প্রধান কর্তব্য। সেটা এই ক্লাবের সদস্যরা সারা জীবন মেনে চলবেন।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ