Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মানুষ গড়ার নেশা, অবসরের পর ২২ বছর বিনা বেতনের শিক্ষক কাশীপুরের ‘দাদু স্যার’

শুধু বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নয়। আজ, ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে গোটা গ্রাম তাঁর কাছে শ্রদ্ধায় মাথা নোয়াবে। তিনি কাশীপুর থানার নপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুবল নন্দী।

মানুষ গড়ার নেশা, অবসরের পর ২২ বছর বিনা বেতনের শিক্ষক কাশীপুরের ‘দাদু স্যার’
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সজল মণ্ডল, রঘুনাথপুর: শুধু বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নয়। আজ, ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে গোটা গ্রাম তাঁর কাছে শ্রদ্ধায় মাথা নোয়াবে। তিনি কাশীপুর থানার নপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুবল নন্দী। শিক্ষক ছিলেন রঙ্গিলাডি গোপালচক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বাইশ বছর আগে অবসর নিয়েছিলেন সুবলবাবু। কিন্তু ঘরে বসে নেই। স্কুল বদল করে এখনও পড়িয়ে চলেছেন বিনা বেতনে। এখন তিনি গ্রামেরই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সেটাই তাঁর সংসার। ছাত্র-ছাত্রীরা ছেলেমেয়ে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, ২০০১ সালে অবসর গ্রহণ করেছিলেন সুবলবাবু। দু’ বছর বাড়িতে সময় কাটান। সেই সময় নপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের খামতি দেখা দেয়। তৎকালীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুবলবাবুর কাছে পড়ানোর জন্য আবেদন করেন। কোনওকিছু না ভেবেই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তখনই সাফ জানিয়ে দেন, পড়ানোর জন্য কোনও টাকা নেবেন না। সেই থেকে নিঃসন্তান বৃদ্ধ শিক্ষক বিদ্যালয়কে মন্দির আর ছাত্র-ছাত্রীদের সন্তান হিসাবে দেখেন। শিক্ষকদের একাংশ যখন নানা অভিযোগে বিদ্ধ তখন সুবল আদর্শ শিক্ষকের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তিনি এখন ‘দাদু স্যার’ নামে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার সুবলবাবু বলছিলেন, ‘চরম দারিদ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি ছোটবেলায়। অর্থের অভাবে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারিনি। বাবা-মা অনেক কষ্ট করে পড়িয়েছেন। কলেজ পর্যন্ত যেতে পারিনি। তখন থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম. বিনা পারিশ্রমিকে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা শিখিয়ে মানুষ করব। তাই এখনও নিয়মিত স্কুলে আসি। বিদ্যালয়ের তরফে পারিশ্রমিক নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। আমি নিতে চাইনি। যতদিন শরীর চলবে ততদিন পড়িয়ে যাব।’
 স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুবলবাবু ১৯৬১ সালে শিক্ষকজীবন শুরু করেন। সরকারি খাতায় ৪০ বছর চাকরি করার পর অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু শিক্ষাদানের নেশা তাঁকে ঘরে থাকতে দেয়নি। চলে আসেন নিজের গ্ৰামের বিদ্যালয়ে। শুরু হয় অবৈতনিক শিক্ষকতা। এখন সুবলবাবুর বয়স প্রায় ৮৫ বছর। সমানে মানুষ গড়ার কাজ করে চলেছেন। প্রতিদিন ধূতি আর পাঞ্জাবি পরে বিদ্যালয় আসেন। ছোট ছোট বাচ্চাদের ছবির মাধ্যমে অক্ষর জ্ঞানের শিক্ষা দেন। বর্তমানে নপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রি-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পঠন-পাঠন হয়। সুবল বাবুকে নিয়ে মোট ৯ জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৩৫৪ জন। বিদ্যালয়ের টিআইসি তনুশ্রী ঘোষ বলেন, ‘সুবলবাবু আমাদের কাছে আদর্শ। এই বয়সেও তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন। আমরা তার কাছে অনুপ্রেরণা পাই।’ বিদ্যালয় সরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে কাজল কর, স্নেহময়ী মণ্ডলরাও বলছিলেন, ‘চাকরিতে যোগদানের পর সুবলবাবুকে বিদ্যালয়ে দেখেছিলাম। তাঁর কাছে এখনও আমাদের অনেক কিছু শেখার রয়েছে। উনি আমাদের অভিভাবকের মতো আগলে রাখেন।’  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ