Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গীঁধগ্রামে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি কর্মতীর্থ তালাবন্ধ

গীঁধগ্রামে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি কর্মতীর্থ তালাবন্ধ
  • ২৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: রাজ্যের বেকার যুবকদের ব্যবসা করার জন্যই রাজ্য সরকার প্রতিটি ব্লকে কিষানমান্ডি, কর্মতীর্থ গড়ে দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে দ্বিতল ভবন তৈরি হয়েছে। কাটোয়ার গীঁধগ্রামেও কয়েক লক্ষ টাকা খরচে গড়ে উঠেছে কর্মতীর্থ। সেখানে সব ঘর বিলিও হয়েছে। কিন্তু ঘর নিয়েও ব্যবসায়ীরা সেখানে যাচ্ছেন না। পড়ে নষ্ট হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকায় গড়ে তোলা সরকারি সম্পত্তি। রাত হলেই সেখানে অসামাজিক কাজকর্ম বাড়ছে। কর্মতীর্থ কবে কর্মমুখর হবে তা নিয়েই ধন্দ তৈরি হয়েছে। কাটোয়ার মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন বলেন, আসলে ওটা বাজার থেকে কিছুটা দূরে বলে অনেকেই যেতে চাইছেন না। তবুও আমরা বলেছি, ঘর নিলে ব্যবসা করতে হবে। আমরা বিডিওকে বলেছি বিষয়টা দেখতে। 

Advertisement

কাটোয়া-১ ব্লকের গীঁধগ্রাম পঞ্চায়েতের কৈথন নীলের পাড় এলাকায় ৩ একর জায়গার উপর ২ কোটি ৮৮ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা খরচ করে একটি দ্বিতল কর্মতীর্থ ভবন তৈরি করা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ব্লক প্রশাসনকে ভবন হস্তান্তর করা হয়। দু’টি তল মিলে প্রায় ৪০টির কাছাকাছি ঘর রয়েছে।  ২০২৩-২৪ বর্ষে এলাকার যুবকদের ব্যবসা করার জন্য তা বিলি করা হয়। অনেক যুবক ব্যবসা করার জন্য মালপত্র ওই ভবনে রাখেন। কেউ কেউ আবার গোডাউন হিসেবেও ব্যবহার করেন। অভিযোগ, কর্মতীর্থ এখন অধিকাংশ দিন তালা বন্ধ হয়ে পড়ে থাকে। চত্বর আগাছায় ঢেকেছে। রাত হলেই মদ্যপদের আড্ডা বসছে। ঘরের কাঁচ ভাঙা পড়ে রয়েছে এখানে সেখানে। প্রশ্ন উঠছে, কর্মতীর্থতে ব্যবসা যদি কেউ না করেন, তাহলে সেখানে ঘর নিয়ে কী করবেন। 
ঘর নেওয়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, কড়ুই-কৈচর রোডে স্থানীয় বাজার থেকে বেশ কিছুটা দূরে ওই কর্মতীর্থটি হয়েছে। ফলে ক্রেতা জুটছে না। স্থানীয় যুবক আকাশ কুণ্ডু, প্রদীপ ঘোষ বলেন, আমরা প্রথম দিকে ওখানে দোকান খুলে বসেছিলাম। কিন্তু পরে দেখলাম ওখানে ক্রেতা আসছে না। বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আবার খুলব। কাটোয়া-১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য পলাশ কুণ্ডু বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সবাইকে ডেকে আবার বলা হবে। যাতে সেখানে গিয়ে ব্যবসা করেন। কেউ কেউ আসছেন সকালের দিকে। 
গীঁধগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রহিমা বিবি বলেন, কডুই-কৈচর রোডের পাশে নীলের পাড় এলাকায় ওই প্রকল্প গড়া হয়েছে। নীলের পাড় থেকে গীঁধগ্রাম, কলসা এলাকায় যাওয়ার জন্য রাস্তাও তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্প এলাকার পাশেই কাটোয়া থানার অধীনে থাকা কৈথন পুলিস ক্যাম্প তৈরি হচ্ছে। তখন ওই এলাকা জমজমাট হবে। ঘর যাঁরা নিয়েছেন প্রত্যেকেই ব্যবসা করার জন্যই নিয়েছেন। ব্যবসা সবাই করবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ