Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগে সরব হয়েছিলেন! কন্ট্রোলারকেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অপসারণ, চাঞ্চল্য

কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগে সরব হয়েছিলেন কন্ট্রোলার বিশ্বজিৎ দত্ত।

কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগে সরব হয়েছিলেন! কন্ট্রোলারকেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অপসারণ, চাঞ্চল্য
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগে সরব হয়েছিলেন কন্ট্রোলার বিশ্বজিৎ দত্ত। আর সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে তাঁকেই অপসারণ করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় শিক্ষা মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। গত সোমবার এই মর্মে সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, অনিয়ম নিয়ে সরব হওয়ার জন্যই তাঁকে অপসারণ করা হল? যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নির্দেশিকা উচ্চ শিক্ষাদপ্তর থেকে নেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

ওই নির্দেশিকায়, কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কন্ট্রোলার বিশ্বজিৎবাবুর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসদাচরণ এবং আইনসম্মত নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করার অভিযোগ দেখানে হয়েছে। সেই অনুযায়ী বিশ্বজিৎবাবুকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়। ওই নোটিসের জবাব তিনি উপাচার্যকে দেন। তবে সেই জবাব সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়নি। এর ভিত্তিতেই উপাচার্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা বিশ্বজিতবাবুকে অপসারণের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই তাঁর অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ আগস্ট উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী পরীক্ষা নিয়ামক বিশ্বজিৎ দত্তকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক পরীক্ষা নিয়ামক পদে নিয়োগ করা হয়। ওই নিয়োগের মেয়াদ ছিল ছয় মাস অথবা সংশ্লিষ্ট পদে স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে কন্ট্রোলার হিসেবে বিশ্বজিতবাবু কার্যকাল পাঁচ মাস পূর্ণ হয়েছিল। 
এব্যাপারে কন্ট্রোলার বলেন, সমস্ত অন্যায়ের বিরদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলাম। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই আমাকে জোরপূর্বক উচ্চশিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে কোনও শো-কজ না করেই আমাকে অপসারণ করা হয়েছে। যা করা যায় না। উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছে এই কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ করে ভর্তি প্রক্রিয়া ও গেস্ট ফ্যাকাল্টি নিয়োগকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ, ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে সংরক্ষিত শ্রেণির(এসসি, এসটি, ওবিসি) আসন বণ্টনের কোনও তথ্যই প্রথমে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয় পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে। পরবর্তীতে একাধিকবার ভর্তি আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়। কিন্তু, কেন প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে সংরক্ষণের তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল তা নিয়েও স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই বিষয়টি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষাদপ্তরও। জানা যায়, শিক্ষাদপ্তরের তরফ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে পুরো ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছিল। যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার বিশ্বজিৎবাবু। শুধু ভর্তি প্রক্রিয়াই নয়, গেস্ট ফ্যাকাল্টি নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে ইউজিসি নির্ধারিত যোগ্যতামান নেট, সেট বা পিএইচডি সংক্রান্ত কোনও উল্লেখ না করেই গেস্ট ফ্যাকাল্টি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এমনকী কতগুলি পদে নিয়োগ হবে, কোন বিষয় বা কোন ক্যাটাগরিতে নিয়োগ করা হবে, সেই সম্পর্কেও কোনও তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়নি। নিয়োগের এমন অস্পষ্ট নোটিস ঘিরে শিক্ষামহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ