নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া ও শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক। ভর্তি প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণের নিয়ম অমান্য এবং গেস্ট ফ্যাকাল্টি নিয়োগেও ইউজিসির নির্দেশিকা অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানার পর রাজ্য সরকারের জয়েন্ট কমিশনার ফর রিজার্ভেশন অ্যান্ড অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ৬ আগস্ট কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু অভিযোগ, সেই নোটিশে সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য আসন বণ্টনের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে সংরক্ষণের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
পরে ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভর্তির সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করে। কিন্তু তাতেও ছাত্রীদের সাড়া না পাওয়ায়, ৪ সেপ্টেম্বর আবারও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সময়সীমা বাড়ানো হয় ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর পরবর্তীতে ভর্তি প্রক্রিয়া চলে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় হঠাৎ প্রতিটি বিষয়েই প্রায় ওয়েটিং লিস্টেড ক্যান্ডিডেট থাকা সত্ত্বেও নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ১৫ অক্টোবর এবং সেখানে আবেদনের শেষ তারিখ করা হয় ২৮ অক্টোবর। দ্বিতীয়বার বিশ্ববিদ্যালয় যখন নতুন করে আবেদনের বিজ্ঞপ্তি দেয়, তখন যে সেটগুলি ফাঁকা রয়েছে সেই সিটগুলি ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভাগ করে দেয়। এখানেই মূল প্রশ্ন— আগের বিজ্ঞপ্তিতে কেন সংরক্ষণের তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল?
শিক্ষক নিয়োগেও একইভাবে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১৪ মে ২০২৫ তারিখে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট বিভাগের জন্য গেস্ট ফ্যাকাল্টি নিয়োগের নোটিশ জারি করা হয়। সেই নোটিশে ১১টি বিষয়ের জন্য দশ দিনের মধ্যে ই-মেলের মাধ্যমে সিভি পাঠাতে বলা হয়। সূত্রের দাবি, এই আহ্বানে প্রায় ১১০০ জন আবেদনকারী সাড়া দেন।
কিন্তু অভিযোগ, ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি যে, শুধুমাত্র ইউজিসি নিয়ম অনুযায়ী নেট, সেট বা পিএইচডি-ধারীরাই আবেদন করতে পারবেন। এমনকী, প্রতিটি বিষয়ভিত্তিক কতজন গেস্ট ফ্যাকাল্টি নেওয়া হবে, মোট কতগুলি পদ ফাঁকা রয়েছে, বা কোন কোন ক্যাটাগরিতে নিয়োগ হবে— সেই তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। নিয়ম অনুসারে এগুলো প্রকাশ বাধ্যতামূলক হলেও বিশ্ববিদ্যালয় তা মানেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই দুই ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও নথি সহ রিপোর্ট চেয়েছে। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমস্ত ধাপ খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে তদন্ত শুরু করা হতে পারে।
যদিও এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষ্ণেন্দু রক্ষিত বলেন, আমাদের কমিটির মাধ্যমে দিয়েই সমস্ত কাজ করা হয়েছে। অ্যাডভাইজারি, অ্যাডমিশন সহ বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। তাই যেখানে যা দরকার, নিয়ম মেনেই সবটা করা হয়েছে। কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর একটি স্বপ্নের প্রকল্প। এখানে সরকারের গাইড লাইন থাকবে সেটাই অনুসরণ করা হয়েছে। আমাদের কালিমালিপ্ত করার জন্য একটা গ্রুপ এইসব করছে।
যদিও এই নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, গেস্ট ফ্যাকালটি নিয়োগ এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় কিছু অনিয়ম দেখার পর বিষয়টি আমি সর্বস্তরে জানিয়েছিলাম। সেইমতো রাজ্যের তরফ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি করা হয়েছে। তাঁরা তদন্তের স্বার্থে রিপোর্ট চেয়েছেন।