সংবাদদাতা, কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজ গৌরবময় কালসরণী অতিক্রম করে শতবর্ষে পদার্পণ করল। শতবর্ষকে সামনে রেখে দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা হল মঙ্গলবার। এদিন এই উপলক্ষ্যে কাঁথি হাইস্কুল প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য ও সুসজ্জিত শোভাযাত্রা কলেজ প্রাঙ্গণ পর্যন্ত পরিক্রমা করে। আজ থেকে একশো বছর আগে এই কাঁথি হাইস্কুলেই কলেজের পথচলা শুরু হয়েছিল। বর্ণময় এই শোভাযাত্রায় কলেজের বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা যেমন ছিলেন, তেমনি প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, শিক্ষাকর্মীরা, বিশিষ্ট ব্যক্তি, শুভানুধ্যায়ীরাও শামিল হন। এই শোভাযাত্রা দেখতে শহরের রাস্তার দু’পাশে প্রচুর মানুষ ভিড় জমান। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রাক্তনীরা যাঁরা বিভিন্ন সময়ে কলেজের পড়াশোনা করেছেন, তাঁরা রীতিমতো স্মৃতিমেদুরতায় ভেসে যান। শোভাযাত্রায় যোগ দেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিকও।
শোভাযাত্রা কলেজের মূল গেটের কাছে পৌঁছনোর পর মশাল জ্বালান ও মঙ্গলঘট প্রতিষ্ঠা করেন কলেজের অধ্যক্ষ তথা শতবর্ষ উদযাপন সমিতির সম্পাদক অমিতকুমার দে। জাতীয় পতাকা, কলেজের পতাকা ও উদ্যাপনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ১০০টি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং বটবৃক্ষের চারায় জলদান করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বেলুড়ের ‘রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ ইউনিভার্সিটি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট’-এর রেজিস্ট্রার স্বামী কালেশানন্দজি। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আটর্স-কমার্স ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর অরিন্দম গুপ্ত, কাঁথির মহকুমা শাসক প্রতীক অশোক ধুমাল, কলেজের প্রাক্তনী সংগঠনের সভাপতি প্রাক্তন অধ্যাপক প্রভাত চক্রবর্তী, সম্পাদক অর্ধেন্দুশেখর খাটুয়া, সমাজসেবী কামদেব জানা সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অতিথিরা কলেজের ইতিহাস এবং নানা কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। আজ, বুধবার বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। থাকছে বর্তমান ও প্রাক্তনীদের মধ্যে মেলবন্ধন, স্মৃতিচারণের লক্ষ্যে আলোচনাচক্র সহ নানা কর্মসূচি। শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে সুদৃশ্য তোরণ যেমন রয়েছে, তেমনি সারা কলেজই রঙিন আলোকমালায় সেজে উঠেছে। অধ্যক্ষ বলেন, একশো বছরের ইতিহাস নিয়ে গ্রন্থপ্রকাশ হবে। পাশাপাশি শতবর্ষের স্মারক হিসেবে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে একটি করে ব্যাজ দেওয়া হবে। শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে সারাবছরই নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।-নিজস্ব চিত্র