রাজদীপ গোস্বামী, কনকাবতী: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জোর কদমে শুরু হয়েছে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ। সেই কাজে এগিয়ে মেদিনীপুর সদর ব্লকের কনকাবতী গ্রাম পঞ্চায়েত। চলতি অর্থবর্ষেও এই গ্রাম পঞ্চায়েত একাধিক প্রকল্প রূপায়ণের পরিকল্পনা করেছে। ফলে উপকৃত হবেন প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারাও। মেদিনীপুর বিধানসভার বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, এই পঞ্চায়েতের পাশে সর্বদা থাকব। মানুষের সমস্যার সমাধান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। যা এই পঞ্চায়েত করছে।
জানা গিয়েছে, এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সলিড ও প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প তৈরির ফলে উপকৃত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যা অন্যদের থেকে এগিয়ে রেখেছে কনকাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতকে। এছাড়া গত অর্থ বছরে রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা সহ একাধিক প্রকল্পের রূপায়ণ করেছে এই গ্রাম পঞ্চায়েত। একই সঙ্গে এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বহু বাসিন্দা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকেও ঠিকমতো পরিষেবা মেলে। বেশকিছু এলাকায় রাস্তার সমস্যা আছে ঠিকই, কিন্তু, পানীয় জলের সমস্যা দূরীকরণে ভালো কাজ হয়েছে। একইসঙ্গে বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহও করা হচ্ছে।
কনকাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুখেন্দুবিকাশ জানা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মানুষের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেন। সেই কথা মাথায় রেখেই মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। চলতি অর্থবছরেউন্নয়নমূলক কাজের গতি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেদিনীপুর সদর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতি গৌতম দত্ত বলেন, এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কাজের সুনাম আছে। এখানে সাংসদ তহবিলের টাকায় কমিউনিটি হল সংস্কার করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে জঙ্গলমহলের এই জেলাজুড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তার কারণ, সরকারি বিভিন্ন পরিষেবা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আরও সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গ্রাম পঞ্চায়েত। সেই পরিষেবা প্রদানে অনেকটাই এগিয়ে কনকাবতী। সে জন্য ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসকদলের পক্ষেই রায় দেন সাধারণ মানুষ। এই পঞ্চায়েত এলাকায় ২০টি সংসদের মধ্যে ১৪টি দখল করেছিল তৃণমূল। ৫টি সংসদ যায় নির্দলদের দখলে। আর মাত্র একটি সংসদ দখল করেছিল বিজেপি।
এই পঞ্চায়েত এলাকায় সম্প্রতি ১৫টি রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। যার জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ৫১ লক্ষ টাকা। এছাড়া নিকাশি নালার সমস্যার সমাধান করতে ৯টি ড্রেন তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্প রূপায়ণের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা। অপরদিকে, বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের সমস্যার সমাধান করেছে গ্রাম পঞ্চায়েত। প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা খরচ করে ২৩টি পানীয় জলের প্রকল্প রূপায়ণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রথম ধাপে ৩৮৯টি পরিবার বাংলার বাড়ি প্রকল্পে উপকৃত হয়েছে। ধাপে ধাপে আরও ১০০৪টি পরিবার বাড়ি পাবেন।
জন প্রতিনিধিরা কথায়, এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। পঞ্চায়েত এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবার কাঠামো খুবই দুর্বল। এছাড়া নিকাশির আরও উন্নতির প্রয়োজন। এই পঞ্চায়েত এলাকার তিনটি আইসিডিএস সেন্টারের নিজস্ব ঘর নেই। বহু দুঃস্থ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান না।-নিজস্ব চিত্র