নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: শিলান্যাসের পর পেরিয়ে গিয়েছে ন’বছর। নদীর বুকে সেতুর আটটি পিলার ওঠার কথা ছিল। কিন্তু, তিনটি পিলার উঠতেই বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ার অছিলায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়! আজও পুরুলিয়া-১ ও আড়ষা ব্লকের সংযোগকারী সেতুর নির্মাণ শেষ হয়নি। কাজেই সেতু তৈরি না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই ভেলায় চড়ে নদী পারাপারে বাধ্য হচ্ছেন দু’পারের মানুষ। অথচ প্রশাসন নির্বিকার।
কংসাবতী নদীর একদিকে পুরুলিয়া-১ ব্লকের কাঁটাবেড়া, গাড়াফুসর সহ জয়পুর ব্লকের বিস্তীর্ণ জনপদ রয়েছে। অন্য পাড়ে রয়েছে আড়ষা ব্লকের বামুনডিহা, জুরাডি, তুম্বা ঝালদা, আড়ষা, শিরকাবাদ সহ বিভিন্ন গ্রাম। আড়ষায় ব্যাপক সব্জি চাষ হয়। সেই সব্জি ঝাড়খণ্ডের বোকারো বা জেলার সদর শহরে পৌঁছতে হলে চাষিদের কংসাবতী পেরিয়ে চাষমোড়ে আসতে হয়। চাষমোড় থেকে যানবাহনের সুবিধাও মেলে। তাই কাঁটাবেড়া ঘাটে সেতু তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের। যদিও দাবিপূরণ হয়নি। বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, বছরের অন্য সময়ে সেভাবে জল থাকে না নদীতে। নদীর উপর অস্থায়ী বাঁশের সেতু তৈরি করে চলে পারাপার। কিন্তু, বর্ষায় কংসাবতী ফুলেফেঁপে ওঠে। তখন ভরসা বলতে শুধু ভেলা। হাওয়া ভরা চারটি বড় টিউবের উপরে বাঁশের ফালির মাচা বেঁধে তার উপরে পাতলা টিনের পাত বসিয়ে তৈরি ভেলাতেই চলে পারাপার।
বামুনডিহার বাসিন্দা দেবীলাল মাহাত বলেন, নদী পারাপার করতে গত বছর যে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছিলাম, তা জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল। এবছরও নিজেদের স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু, কয়েক দিনের বৃষ্টির জেরে সেই অসম্পূর্ণ সেতুও ভেসে যায়। ফলে সোমবার থেকে ভেলায় নদী পারাপার শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই প্রায় ৬০০ বাইক পারাপার করেছে। তাহলে এই সেতুটা কত গুরুত্বপূর্ণ ভাবুন!
নদী পারাপারের সঙ্গে যুক্ত মহেশ্বর মাহাত, কৃষ্ণপদ মাহাত, বঙ্কিম মাহাত বলেন, মানুষের অসুবিধা হচ্ছে দেখেই আমরা এগিয়ে এসেছি। নদী পারাপারের ব্যবস্থা করেছি। যাত্রীরা যা দেন, তাই নিই। আড়ষার গ্রাম থেকে সব্জি বেচতে আসা স্বপন কুমার বলেন, এভাবে পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ আমরা জানি। কিন্তু, আমরা নিরুপায়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এই সেতুর শিলান্যাস করেন তৎকালীন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাত। পর্ষদের তরফে এই সেতু নির্মাণে বরাদ্দ হয় প্রায় ন’কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। মোট আটটি পিলার হওয়ার কথা ছিল। যদিও তিনটি পিলার তৈরি করেই নাকি সেতুর টাকা শেষ হয়ে যায়! দেখা নেই ঠিকাদারেরও। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কীভাবে ফের এই সেতুর নির্মাণ শুরু করা যায়, সেব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।