সংবাদদাতা, কান্দি: রুটিরুজি জোগাড়ে ভিনরাজ্যে তাঁদের যেতেই হয়। তবে সেখানে গিয়ে শুধুমাত্র ভাষার জন্য হেনস্তা হতে হচ্ছে। তাই এবার ভিনরাজ্যের ভাষাটাই রপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন কান্দি মহকুমার চুলের ফেরিওয়ালারা। তাঁরা ভোজপুরী ভাষা রপ্ত করছেন।
সংবাদদাতা, কান্দি: রুটিরুজি জোগাড়ে ভিনরাজ্যে তাঁদের যেতেই হয়। তবে সেখানে গিয়ে শুধুমাত্র ভাষার জন্য হেনস্তা হতে হচ্ছে। তাই এবার ভিনরাজ্যের ভাষাটাই রপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন কান্দি মহকুমার চুলের ফেরিওয়ালারা। তাঁরা ভোজপুরী ভাষা রপ্ত করছেন।
প্রসঙ্গত, কান্দি মহকুমার বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা চুলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অধিকাংশ ব্যবসায়ী ঝরে পড়া চুলে কেনার জন্য বিহার ও ঝাড়খণ্ডে যান। তবে সম্প্রতি তাঁরা সমস্যায় পড়ছেন বলে দাবি। বাংলায় কথা বললে তাঁদের বাংলাদেশি ভেবে হেনস্তা করা হচ্ছে। তার থেকে রেহাই পেতেই তাঁরা ভোজপুরী শিখছেন।
ভরতপুরের সুরপাড়ায় গিয়ে দেখা গেল, কয়েকজন চুল ব্যবসায়ী একটি মাচায় বসে একে অপরের সঙ্গে ভোজপুরী ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করছেন। কারও ভুল হলে অন্যজন শুধরে দিচ্ছেন। কারণ জানতে গেলে স্থানীয় আনিসুর শেখ বলেন, প্রতিবেশী বিহারে অনেকেই বাংলা জানেন না। তাই ওখানে বাংলায় কথা বললে সমস্যা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। তাতে ব্যবসা করা যাচ্ছে না। এই কারণে ভোজপুরী ভাষা শেখার চেষ্টা করছি। অপর বাসিন্দা মুনাই শেখ বলেন, এই ভাষা অনেকটা হিন্দির মতোই। একটু চেষ্টা করলেই পেরে যাচ্ছি। তবে ভোজপুরীতে কথা বলার জন্য নয়, ওঁদের ভাষা বোঝার জন্য আমাদের এই চেষ্টা। কারণ ওঁরাও বাংলা জানেন না।
ভরতপুরের চুলের মহাজন সৈয়দ আব্দুল আজিম বলেন, বিহার, ঝাড়খণ্ডে এখানকার চুলের ফেরিওয়ালাদের খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বাংলায় কথা বললে হেনস্তা করা হচ্ছে। তবে রোজগারের তাগিদে ওঁদের রাজ্যে যেতেই হচ্ছে। তাই ভোজপুরী শেখাটাও জরুরি হয়ে পড়েছে।
এই দৃশ্য শুধু ভরতপুরের নয়। প্রতিবেশী খড়গ্রাম, সালার, কান্দির বিভিন্ন গ্রামেও দেখা গিয়েছে। বড়ঞার বধূয়া গ্রামের ফেরিওয়ালা আতাই শেখ বলেন, হিন্দি ভাষা মোটামুটি জানলেও এখন ব্যবসা করতে গেলে ভোজপুরী ভাষা সম্পর্কে একটু ধারণা থাকতেই হবে। নইলে বিপদে পড়তে হচ্ছে। প্রতিবেশী রাজ্যে বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশি ভেবে হেনস্তা করছে। তবে ওঁদের ভাষা জানলে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। ওঁদের ভাষায় প্রতিবেশী রাজ্যের মহাজনদের সঙ্গে কথা বললে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে। ওদের ভাষায় ওঁদের সঙ্গে কথা বলে আমরা নিজেদের ভারতীয় বলে বোঝাতে পারছি।