Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কামারপুকুর জয়রামবাটি উন্নয়ন পর্ষদ গঠন, বরাদ্দ হল ১০ কোটি, চেয়ারম্যান মহারাজ, মমতার ঘোষণায় উচ্ছ্বাস

কামারপুকুর জয়রামবাটি উন্নয়ন পর্ষদের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কামারপুকুর জয়রামবাটি উন্নয়ন পর্ষদ গঠন, বরাদ্দ হল ১০ কোটি, চেয়ারম্যান মহারাজ, মমতার ঘোষণায় উচ্ছ্বাস
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রামকুমার আচার্য, কামারপুকুর: কামারপুকুর জয়রামবাটি উন্নয়ন পর্ষদের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি ভার্চুয়ালি কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অতিথি নিবাস ও পার্কিংয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেই উপলক্ষ্যে কামারপুকুর চটিতে সভা আয়োজন করা হয়। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী কামারপুকুর ও জয়রামবাটিকে নিয়ে ডেভেলপমেন্ট বোর্ড গঠনের ঘোষণা করেন। কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী লোকোত্তরানন্দজি মহারাজকে নয়া এই বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এলাকা উন্নয়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দও করেন। আজ, বুধবার এনিয়ে নোটিফিকেশন হবে বলে তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা মাত্রই উপস্থিত জনতা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। 

Advertisement

ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের পুণ্য আবির্ভাবভূমি কামারপুকুর। সেখানেই রয়েছে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন। প্রতিদিনই পর্যটকদের ভিড় এখানে দেখা যায়। এদিন সেখানে অতিথি নিবাস ও পার্কিংজোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মমতা। এদিন সভামঞ্চে ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চে ছিলেন কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ সহ অন্যান্য মহারাজরা। এছাড়া রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, রাজ্য পুলিসের ডিজি রাজীব কুমার, হুগলির জেলাশাসক মুক্তা আর্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহারাজরা আমাদের সব অনুষ্ঠানে যান। তাঁদের আশিস, স্নেহ, শুভকামনা, আশীর্বাদ আমরা সবসময় পাই। আমি তাঁদের প্রণাম জানাই। তাঁরা আমাদের পথ প্রদর্শক। তাঁদের দাবি মেনে অতিথি শালা ও পার্কিংজোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম। মুখ্য সচিব, পূর্তদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। উন্নয়নের কাজ নিয়ে তাঁরা যেভাবে গাইড করবেন, তা করে দেব।
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বোর্ডের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, কামারপুকুর জয়রামবাটিকে কেন্দ্র করে সাজানোর জন্য একটা তোরণ হওয়া উচিত। সেই জন্য জয়রামবাটি কামারপুকুর ডেভেলপমেন্ট বোর্ড করে দিচ্ছি। স্বামী লোকোত্তরানন্দজি মহারাজকে চেয়ারম্যান করে এই ডেভেলপমেন্ট বোর্ড করা হচ্ছে। তাতে সদস্য কারা থাকবেন, সেটা চেয়ারম্যান ঠিক করবেন। জেলাশাসক, পুলিস সুপার, পূর্তদপ্তরকে রাখতে পারেন। অন্যান্য মহারাজদের রাখবেন। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যক্ষ মহারাজের উদ্দেশে বলেন, আপনি লিস্টটা জেলাশাসককে দিয়ে দেবেন। জেলাশাসক আমাকে তা পাঠিয়ে দেবেন। এখন ১০ কোটি টাকা অনুমোদন করে যাচ্ছি। এদিন যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হল তারজন্য প্রায় পৌনে ছ’কোটি টাকা খরচ হবে। বাকি কাজগুলি করে দেওয়ার জন্য ১০ কোটি টাকা দিয়ে যাচ্ছি। যাতে পর্ষদ ঠিকভাবে কাজ করতে পারে।
এই ঘোষণা মাত্রই উপস্থিত জনতার মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। হাততালিতে সভাস্থল ফেটে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, উন্নয়ন পর্ষদ আমাদের কাছে বড় প্রাপ্তি। এর ফলে এলাকায় আরও উন্নয়ন হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন রামকৃষ্ণ দেব, মা সারদা, বিবেকানন্দের সঙ্গে ঐতিহাসিক, মানবিক, সম্প্রীতির সম্পর্ক রয়েছে। যাঁরা শুধু বাংলাকে নয় সারা বিশ্বকে পথ দেখিয়েছিলেন। তাই ধর্ম সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করার জন্য অন্য কোথাও যাওয়ার দরকার নেই। রামকৃষ্ণ, সারদা মা ও স্বামীজির সংস্পর্শে থাকলেই হবে।
এদিন সভায় রামকৃষ্ণ মঠের অধ্যক্ষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এর আগে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে বহু কাজ করে দিয়েছেন। আগামী দিনেও করে যাবেন বলে আমরা আশা রাখি। আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য পাই। আমরাও মানুষের সেবা করে থাকি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ