সংবাদদাতা, মানিকচক: গঙ্গা ভাঙনের পর প্রায় ছ’মাস পার হয়েছে। এখনও শুরু হয়নি কামালতিপুরের গঙ্গা ভাঙন কবলিত এলাকায় বাঁধ মেরামতির কাজ। ফলে নদীর ধারে বিপজ্জনকভাবে রয়েছে জামে মসজিদ। সঙ্গে প্রমাদ গুনছে তীরবর্তী এলাকার প্রায় ২৫০টি পরিবার। তাঁদের আশঙ্কা, বাঁধ মেরামত না করলে হয়তো পরের বর্ষায় তলিয়ে যাবে মসজিদটি। হয়তো এবারের ঈদের নামাজই শেষবারের মতো এই মসজিদে পড়বেন তাঁরা। এলাকা ছাড়া হতে হবে বাসিন্দাদেরও। দ্রুত কাজ শুরু না হলে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন বলে দাবি করেছেন বাসিন্দারা।
মানিকচকের গোপালপুর পঞ্চায়েতের কামালতিপুর গ্রামে গত বর্ষায় গঙ্গা ভাঙন বিধ্বংসী রূপ নিয়েছিল। তলিয়ে গিয়েছিল ছিল কয়েকশো বিঘা জমি সহ ঘরবাড়ি। এলাকা ছাড়া হয়েছিল প্রায় পাঁচশো পরিবার। এই ভাঙনে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এমনটা নয়, প্রায় তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম এলাকার একমাত্র জামে মসজিদটির। তবে সেচ দপ্তরের তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত নদী তীরবর্তী কিছু জায়গা ও মসজিদের জায়গার একটা অংশে বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন আটকানো হয়। এখন ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদেই নিয়মিত চলছে নামাজ। কিন্তু ভাঙন রোধের কাজ দ্রুত না হলে পরবর্তী ঈদের নামাজ এখানে আর পড়া যাবে না বলে আক্ষেপ করলেন শেখ নিজামুদ্দিন। তাঁর কথায়, ভাঙন আতঙ্ক নিয়েই নদীর ধারে বাস করছি। রাজ্য সরকার দ্রুত উদ্যোগ না নিলে ডুবে মরতে হবে আমাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য আইয়ুব আলী জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভূতনি সহ অন্যান্য জায়গায় কাজের টাকা বরাদ্দ হলেও গোপালপুরে কিছু হচ্ছে না। ইতিমধ্যে ভাঙনের ভয়ে গ্রাম ছাড়া হয়েছে অর্ধেকের বেশি পরিবার। দ্রুত কাজ না হলে কামালতিপুর বলে কোনও গ্রাম মানচিত্রে থাকবে না।
এবিষয়ে মানিকচকের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রর মন্তব্য, ভাঙনের কাজে কেন্দ্র ব্যর্থ। ভাঙন কবলিত ভূতনি গোপালপুর ও মানিকচক ঘাটে কাজের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন জানিয়েছিলাম। ভূতনির জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। দ্রুত গোপালপুর ও মানিকচকের জন্য অর্থ বরাদ্দ হলে কাজ শুরু হবে। নিজস্ব চিত্র