নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বৃহস্পতিবার কল্পতরু উৎসব উপলক্ষ্যে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে ব্যাপক ভক্ত সমাগম হয়। ভক্তিভরে প্রসাদ গ্রহণ করেন ভক্তরা। দিনভর রামকৃষ্ণদেবের বিশেষ পুজো ও নানা অনুষ্ঠান হয় মঠে। প্রত্যেক বছরের মতোই এদিন সেখানে কল্পতরু দিবস পালিত হয়েছে।
মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোরে মঙ্গলারতি দিয়ে কল্পতরু দিবস পালন শুরু হয় কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে। এরপর বেদপাঠ, স্তবগান হয়। তারপর বিশেষ পুজো ও চণ্ডীপাঠ হয়। এছাড়া হোম, পাঠ ও আলোচনা হয়েছে মঠে। দিনের বিভিন্ন সময়ে ভজন সহ ভক্তিমূলক অনুষ্ঠানে মুগ্ধ হন ভক্তরা। এদিন কামারপুকুরে ঠাকুরের দর্শন পেতে ভিড় করে আবালবৃদ্ধবনিতা।
কল্পতরু উৎসব উপলক্ষ্যে কামারপুকুর মঠের সমস্ত গেস্ট হাউস আগে থেকেই বুকিং হয়ে যায়। ফলে এদিনও সেখানে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। অন্যান্য লজেও অনেক ভক্ত ছিলেন। সকাল থেকেই আনাগোনা শুরু হয় ভক্তদের। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তের ঢল নামতে থাকে মঠ চত্বরে। কল্পতরু দিবস উপলক্ষ্যে এদিন দিনভর মঠ খোলা ছিল। তবে ঠাকুরের মন্দির দুপুর ১২টায় বন্ধ হয়ে যায়। ফের পৌনে তিনটে নাগাদ খোলে। এদিন মঠ চত্বরকে সাজানোও হয়। নির্ধারিত সময়ে মঠের তরফে প্রসাদ বিতরণও করা হয়েছে। এদিন সেখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ভক্ত প্রসাদ পেয়েছেন। প্রসাদে খিচুড়ি, বাঁধাকপির তরকারি, চাটনি, পায়েস ও বোঁদে দেওয়া হয়।
মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ মহকুমা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা ও ভিন রাজ্য থেকেও হাজার হাজার ভক্ত এদিন কামারপুকুরে আসেন। ঠাকুরের দর্শন করে পুণ্যার্থীরা কামারপুকুর এলাকা ঘুরে দেখেন। সেখানে ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলি ঘুরে দেখেছেন ভক্তরা। এছাড়া বিভিন্ন দোকানে কেনাকাটাও করেছেন অনেকে। এদিন ব্যাপক ভক্ত সমাগম হওয়ায় নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়। ছিলেন স্বেচ্ছাসেবকরাও।
ভক্তরা এদিন কামারপুকুরের পাশাপাশি জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরও দর্শন করতে যান। কল্পতরু দিবস উপলক্ষ্যে এদিন কামারপুকুর ছিল উৎসব মুখর। ভক্তরা অনেকেই বলছেন, কল্পতরু দিবসে ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। তাই পরিবারের মঙ্গল কামনায় এদিন অনেকেই নিয়ম করে ঠাকুরের পুণ্য জন্মভূমি কামারপুকুরে আসেন।
আরামবাগের বাসিন্দা সুবীর দে এদিন পরিবার নিয়ে কামারপুকুর গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক বছর ঠাকুরের দর্শন করে প্রণাম করি। এবারও তার অন্যথা হয়নি। পরিবার নিয়ে কামারপুকুর গিয়েছি। জয়রামবাটিতে প্রসাদ খেয়ে বাড়ি ফিরেছি। কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী লোকোত্তরানন্দজি মহারাজ বলেন, এদিনই ভগবান রামকৃষ্ণদেব কাশীপুর উদ্যানবাটিতে কল্পতরু হয়েছিলেন। তাই আমরা এখানে কল্পতরু দিবস উপলক্ষ্যে উৎসব উদযাপন করছি। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের ঘরের বারান্দায় চণ্ডীপাঠ হয়। মন্দিরে ঠাকুর, মা সারদাদেবী ও স্বামী বিবেকানন্দের বিশেষ পুজো হয়েছে। ভক্তরা দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন। প্রায় সাড়ে
পাঁচ হাজার ভক্ত প্রসাদ গ্রহণ করেছেন। -নিজস্ব চিত্র