সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: মঙ্গলবার বর্ধমান জেলা সফরে এসে দক্ষিণবঙ্গের ১৪টি জেলার বাসিন্দাদের পাট্টার নথি দেওয়ার কাজের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া দুই বর্ধমানের কাছে তিনি কল্পতরু হয়ে ওঠেন। এদিন দুই বর্ধমানে মোট ৮৯৪ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ৭৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাসও করেন। তিনি পূর্ব বর্ধমানের মোট ১৪৫২টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৭১টি প্রকল্পের শিলান্যাস করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার ১০০দিনের কাজ, জলস্বপ্ন সহ পাঁচটি প্রকল্পের টাকা বন্ধ করলেও উন্নয়ন থেমে থাকবে না বলে তিনি বার্তা দেন। এদিনের মঞ্চ থেকে চলতি শিক্ষাবর্ষে সবুজসাথী প্রকল্পে সাইকেল দেওয়া শুরু হল। মুখ্যমন্ত্রী কয়েকজন পড়ুয়ার হাতে সাইকেল তুলে দেন। সাড়ে ১২লক্ষ ছাত্রছাত্রী এই শিক্ষাবর্ষে সাইকেল পাবে।
মুখ্যমন্ত্রী সবার মাথায় পাকাবাড়ির ছাদ তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে যাঁদের বাড়ি ভেঙে গিয়েছে তাঁদের আবাস যোজনার বাইরে আলাদাভাবে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। পূর্ব বধর্মান জেলা পরিষদ দুঃস্থ পরিবারগুলিকে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে সেই প্রকল্পেরও সূচনা হয়। মঞ্চে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা হাজির ছিলেন। পূর্ব বর্ধমানে ৭৮৪ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৬৯৯ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানের ১১০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৫১ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৭৬শতাংশ গ্রামীণ এলাকায় আমরা নলবাহিত জল পৌঁছে দিয়েছি। শহরের ৭৮শতাংশ বাড়িতে জলের পাইপলাইন পৌঁছে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার উপর বঞ্চনা করছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আগেই জিএসটি তুলে দিতে বলেছিলাম। সেটা করেনি। এরজন্য বাংলার ৯০০কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। দেড় লক্ষ পরিবারের কাছে এদিন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ৭২হাজারের বেশি মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। ৯হাজার ৮০০ ছাত্রছাত্রী ঐকশ্রী পাবেন। দু’হাজার ৫০০ পরিবারকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অনেক রাস্তা করে দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলকোট, কালনা, মেমারি-১, গলসি, ভাতার ব্লকে অনেকগুলি বড় রাস্তা উদ্বোধন হল। অনাময় হাসপাতালে ক্যাথল্যাব উদ্বোধন এবং ট্রমা কেয়ারের আধুনিকীকরণ করা হল। পূর্ব বর্ধমানে ৫৪টি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি করা হয়ছে। ৮৬টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র করা হয়েছে। ১৫টি আদিবাসী কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। ৩৯টি প্রতীক্ষালয় তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খণ্ডঘোষ, আউশগ্রাম, গলসি, পূর্বস্থলী এবং মন্তেশ্বর ব্লকে ১৭৫কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা সংস্কার করা হবে। ন’টি পাবলিক হেলথ ইউনিট তৈরি হবে। সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র হবে। যাঁরা মাটির বাড়িতে রয়েছেন তাঁরা পাকাঘর তৈরির জন্য টাকা পাবেন। পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসকের দপ্তর সহ বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন হয়। কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না। তা সত্ত্বেও আমরা ৪৭লক্ষ মাটির বাড়ি পাকা করেছি। এবারও ১২লক্ষ মাটির বাড়ি পাকা হবে। ডিসেম্বর মাসে আরও ১৬ লক্ষ পরিবার টাকা পাবে।