সংবাদদাতা, কালনা: এবারও রাখীবন্ধন ও সংস্কৃতি দিবসের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে রাখী তৈরির বরাত পেল কালনার উইভার্স আর্টিজেন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি রাখী ক্লাস্টার। যুব কল্যাণ ও ক্রিড়া দপ্তর এবং বিশ্ব বাংলা মার্কেটিংয়ের বিভাগের উদ্যোগে ৬ লক্ষ ৬০ হাজার রাখীর তৈরির বরাত পেয়েছে। যা গতবারের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি। পাট ও পাটজাত কাপড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে এই সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব রাখী। এতে থাকবে বিশ্ব বাংলার লোগো। যা তৈরি করতে তিন শতাধিক রাখী শিল্পী রাতদিন এক করে ক্লাস্টারে ও পরোক্ষভাবে আরও এক হাজার শিল্পী রাখী তৈরি করে চলেছেন।
কালনার রাখী শিল্পের সুনাম হয়েছে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও। কালনা শহর ও শহরতলিতে ছোটবড় মিলিয়ে আট-১০টি রাখী তৈরির বেসরকারি কারখানা রয়েছে। কয়েকশো মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। পুরুষ শিল্পী থাকলেও এই শিল্পে মূলত মহিলারাই বেশি কাজ করেন। ঘরে বসে ও কারখানায় গিয়ে রাখী তৈরি করেন। এখন প্রায় ১২ মাসই কাজ থাকে।
২০১৬ সালে এই শিল্পের প্রসারে তৎকালীন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পদপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ রাখী শিল্পের প্রসারে শিল্পীদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। কালনার শ্যামগঞ্জ পাড়ায় ৮০ লক্ষাধিক টাকায় গড়ে ওঠে দ্বিতল রাখী তৈরির সরকারি ক্লাস্টার। উইভার্স আর্টিজেন ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির সহযোগিতায় শিল্পীরা প্রশিক্ষিত হন। প্রথম বছরই পশ্চিমবঙ্গ যুবকল্যাণ ক্রিড়া দপ্তর রাখী বন্ধন উৎসবে এই সংস্থাকে রাখীর বরাত দেয়। করোনায় দু’বছর বন্ধ থাকার পর পরবর্তী বছরগুলিতে ধারাবাহিকভাবে সোসাইটির শিল্পীদের তৈরি রাখীই বরাত পেয়ে আসছে। এবার পরিবেশ বান্ধব পাট ও পাট জাত কাপড় দিয়ে তৈরি সুদৃশ্য রাখীর বরাত পেয়েছে।
রাখী শিল্পী বিথীকা দেবনাথ, তনুশ্রী মজুমদার বলেন, রাখী তৈরিতে খুবই ধৈর্য ও শিল্প ভাবনার নজর থাকা দরকার। তবে, পরিশ্রম অনুযায়ী পারিশ্রমিক কম। তবে, ঘরে বসে বা ক্লাস্টারে গিয়ে সংসারের কাজের ফাঁকে এই কাজ করা যায়। মাসে ছ’-সাত হাজার টাকা রোজগার হয়।
উইভার্স আর্টিজেন ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক তপনকুমার মোদক বলেন, বিগত ছ’বছর ধরে ক্লাসটারে প্রশিক্ষিত রাখী শিল্পীদের তৈরি রাখী সরকারিভাবে মনোনীত হয়ে আসছে। এবারও আমরা ছ’লক্ষ ৬০ হাজার রাখীর বরাত পেয়েছি। শিল্পীরা রাতদিন রাখী তৈরি করে চলেছেন। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, কালনার রাখী শিল্পীদের কথা ভেবে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য আট বছর আগে সরকারি উদ্যোগে কালনা শহরে ভবন নির্মাণ ও ক্লাস্টার তৈরি হয়। আজ ক্লাসটারের শিল্পীরা বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছে। এবারও রাখী বন্ধন ও সংস্কৃতি দিবসে এই শিল্পীদের তৈরি রাখী সরকারিভাবে রাজ্যজুড়ে ব্লকে ব্লকে পৌঁছে যাবে। এক হাজারের বেশি রাখীশিল্পী উপকৃত হবেন। এরজন্য আমরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞ।