সংবাদদাতা, কাটোয়া: নদীয়া জেলার নয়াচর গ্রামটি কার্যত ছিটমহল বলা যেতে পারে। নদীয়ার সঙ্গে গ্রামটি বিচ্ছিন্ন হলেও সেটি কাটোয়া শহর ঘেঁষা। ভাগীরথী নদী পেঁচিয়ে রয়েছে গ্রামটিকে প্রত্যন্ত গ্রামে মঙ্গলবার ভোটের শেষ প্রচারে গ্রাম ঘুরে বাসিন্দাদের মন জয় করলেন তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ। তিনি বলেন, বাবার দেখানো পথেই হাঁটব। জয়ী হলে মানুষের জন্য কাজ করব। জেলার ছিটমহল হলেও নয়াচর আমার হৃদয়ে রয়েছে। বাবাও আসতেন এই গ্রামে। উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার সবই করা হবে।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কাটোয়া শহর হয়ে গাড়িতে আসেন কালীগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে ছাতা মাথায় হেঁটে গ্রামে ঘুরলেন। সেমসয় তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিল। সেসব উপেক্ষা করেই গ্রামবাসীদের অভাব অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন। গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন নয়াচরে রাস্তা সংস্কার হয়নি। তাই গ্রাম থেকে ছেলেমেয়েদের স্কুলে যেতে সমস্যা হয়। কাটোয়া শহরে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করতে আসতে হয়। এমনকী চিকিৎসা থেকে হাটবাজার সবেতেই কাটোয়া শহরে আসতে হয়। অথচ গ্রামের রাস্তা বেহাল। এই গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দা সব্জি চাষ করেন। তাই তাঁরা সব্জি নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে যেতেও সমস্যায় পড়েন। তৃণমূল প্রার্থী সব শুনে দলীয় কর্মীদের বলেন, আমি জয়ী হলে আগে নয়াচরের রাস্তা করব। তারপর গ্রামে ঢুকব। এদিন প্রার্থী একজন কর্মীর বাড়িতে বৈঠকও করেন।
নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ বিধানসভার ১৩টি অঞ্চল রয়েছে। তারমধ্যে গোবরা পঞ্চায়েতের অধীনে রয়েছে ২০ নম্বর সংসদের নয়াচর গ্রাম। দু’টি বুথে মোট ১৪৩৫জন ভোটার রয়েছেন। প্রায় ৫০০ পরিবারের এই গ্রামে বসবাস করেন। গ্রামে রয়েছে প্রাথমিক স্কুল। কাটোয়া থেকে ভাগীরথী নদীর বাঁধ পেরিয়ে যেতে হয়। গ্রামের ভিতরে রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে গিয়েছে।
গ্রামবাসী সঞ্জীব চৌধুরী, কৃষ্ণ চৌধুরী বলেন, শুধুমাত্র প্রশাসনিক কাজের জন্যই আমাদের নদীয়া জেলায় যেতে হয়। গ্রাম থেকে কাটোয়া শহরের পানুহাট বাজার পেরিয়ে বল্লভপাড়া ফেরিঘাট আসতে হয়। সেখান থেকে নৌকায় বল্লভপাড়া হয়ে গোবরা পঞ্চায়েত যেতে হয়। কয়েক ঘণ্টা রাস্তা আবার কখনও ট্রেনে নবদ্বীপ হয়ে কৃষ্ণনগর জেলা সদরে যেতে হয়। দুই জেলার প্রশাসনিক মহলে কথা বলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা হোক। গ্রামে পুলিস আসতে চায় না। কোনও সমস্যা হলে নিজেদের মধ্যে বসে মেটাতে হয়।
তৃণমূল প্রার্থী বলেন, নয়াচর গ্রামের মানুষের অনেক সমস্যা রয়েছে। তবে ভোটে জয়ী হলে এখানে রাত্রিবাস করে সব সমস্যা শুনব। সমাধানের রাস্তা বের করব। আমার বাবা মানুষের উন্নয়ন কীভাবে করতে হয় তা আমাকে শিখিয়েছেন। বাবার মুখে নয়াচরের অনেক গল্প শুনেছি। তাই তো শেষদিনের প্রচারে এই গ্রামে এসেছি।