Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচন, প্রার্থী ঘোষণা হতেই ময়দানে তৃণমূল, দেওয়াল লিখন শুরু

কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণার পরই ময়দানে নামল তৃণমূল।

কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচন, প্রার্থী ঘোষণা হতেই ময়দানে তৃণমূল, দেওয়াল লিখন শুরু
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণার পরই ময়দানে নামল তৃণমূল। মঙ্গলবার থেকেই দেওয়াল লিখন শুরু করল শাসকদল। এদিনই প্রয়াত বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদের কন্যা আলিফা আহমেদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সংগঠনের জোটবদ্ধ লড়াইয়ে উপনির্বাচনে জয় আসবে বলে প্রত্যয়ী ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক মহলের দাবি, কয়েক মাস আগেই প্রয়াত হন হয়েছেন বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদ। তাই তৃণমূল তাঁর কন্যাকে প্রার্থী করেছে। যদিও এই টিকিট দেওয়াকে ‘পরিবারতন্ত্র’ বলে মন্তব্য করে তৃণমূলকে খোঁচা দিচ্ছে বিরোধী শিবির। যদিও বিজেপি কিংবা সিপিএম এখনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। 

Advertisement

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়ার পর আলিফা বলেন, আমার দলের রাজ্য সহ জেলার সকল শীর্ষ নেতৃত্বকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য। বাবা আজ থাকলে, খুশি হতো। বাবা দীর্ঘসময় ধরে কালীগঞ্জের মানুষের পাশে থেকেছে। বাবার অসম্পূর্ণ কাজ শুরু করব। তিনি আরও বলেন, আমাদের কালীগঞ্জের সংগঠন খুব ভালো। ব্লকের নেতৃত্ব একটা পরিকল্পনা তৈরি করবে। সেটি সামনে রেখেই ভোটপ্রচারে নামব। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, আমাদের দলের মনোনীত প্রার্থীকে জেতাতে সকলে সম্মিলিতভাবে ঝাঁপিয়েছে। উপনির্বাচনে বিপুল মার্জিনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে জয়ী করে আসনটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাতে তুলে দেওয়া হবে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে কালীগঞ্জের বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন। তারপর থেকেই উপনির্বাচন নিয়ে জল্পনা বাড়ছিল। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে জল্পনা চলছিল। শেষপর্যন্ত দলের তরফ থেকে বিধায়ক কন্যাকেই প্রার্থী করা হয়েছে। নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকে তৃণমূল কর্মীরা আবির খেলা ও মিষ্টি বিতরণে নেমে পড়েন। দেওয়াল লিখনও শুরু হয়ে গিয়েছে।‌ দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮-’২৩ সাল‌ পর্যন্ত কালীগঞ্জ ব্লকের পলাশী এলাকায় জেলা পরিষদ সদস্যা ছিলেন আলিফা। যদিও সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করতে দেখা যায়নি বিধায়ক কন্যাকে। গত সোমবার বিকেলের দিকে জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্র কালীগঞ্জ ব্লকের সংগঠনের সকল সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানেই সম্মিলিতভাবে প্রার্থীকে জেতাতে ভোটে ঝাঁপানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি দলীয় সংগঠনের তৈরি ব্লু-প্রিন্টের ভিত্তিতেই প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলে আলিফা কালীগঞ্জ পৌঁছতেই তাঁকে দলের তরফ থেকে বরণ করে নেওয়া হয়। বিজেপির কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা সহ সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, বাবা ও মেয়ে কখনও সমান হতে পারেন না। তৃণমূল যে পরিবারতন্ত্রের ভিত্তিতেই রাজনীতি করে, তার এটা জ্বলন্ত উদাহরণ। এলাকায় তৃণমূলকে দাঁড় করিয়েছে এমন বহু কর্মী রয়েছেন। তাঁরা জায়গা না পেয়ে পরিবারের লোকজন জায়গা পাচ্ছেন। সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্য বলেন, প্রার্থী কোনও বিষয় নয়। লড়াইটা নীতির লড়াই। আমরা তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। উপনির্বাচনেও লড়াই করব।
• আলিফা আহমেদ। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ