নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: আগামী ১৯ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভায় উপ নির্বাচন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন পড়েছে। পূর্ববর্তী নির্বাচনের ফলাফলের জেরে চনমনে রয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে কালীগঞ্জ বিধানসভার রাম-বাম শিবিরও প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। সবমিলিয়ে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে, পঁচিশেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি শাসক থেকে বিরোধী শিবির— উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে কার উপর বাজি রাখে সেটাই দেখার। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে রাজনৈতিক দলগুলি। কারণ ২৬ মে নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ করা হবে। সেদিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে মনোনয়ন জমা করতে হবে রাজনৈতিক দলগুলিকে। সেই হিসাবে ২ মে মনোনয়নপত্র জমা করার শেষদিন। এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন ৫ জুন। ভোট গণনা ২৩ জুন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন নাসিরউদ্দিন আহমেদ। তিনি ৪০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি ‘লাল’ নামে পরিচিত ছিলেন। দলের এক বর্ষীয়ান নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে খুব বেশি সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের সংগঠন অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় ইভিএম ও ব্যালট মিলিয়ে প্রায় ৩৩ হাজার ভোটের লিড পায় তৃণমূল কংগ্রেস। উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ভোট পোল বেশ কিছুটা কম হয়েছিল। তবে সেই সময় থেকেই ব্লকের সংগঠনের সঙ্গে নাসিরউদ্দিন আহমেদের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হঠাৎ করেই তিনি বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর দীর্ঘ তিনমাস কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র বিধায়কহীন ছিল। সেই সময় থেকেই উপ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। অবশেষে রবিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে উপ নির্বাচনের ঘোষণায় সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ে। এই পরিস্থিতিতে এখন রাজনৈতিক মহলের নজর কেন্দ্রীভূত হয়েছে, কালীগঞ্জ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলের অন্দরে।
কালীগঞ্জ ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, কালীগঞ্জ বিধানসভা তৃণমূলের দুর্জয় ঘাঁটি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আমরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে লড়াই করব। এই বিধানসভা আসনটি ফের মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেব আমরা। দল যাকেই প্রার্থী করবে, আমরা তার হয়েই লড়াই করব।
কালীগঞ্জ বিধানসভার সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্য বলেন, নির্বাচন একটা রাজনৈতিক সংগ্রাম। বিগত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল হয়েছিল আমাদের। উপ নির্বাচনে আমরা লড়াই করব।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, আমরা সাংগঠনিক কাজকর্ম আগে থেকেই এগিয়ে রেখেছিলাম। সেইমতো আমরা প্রস্তুত আছি। দল খুব শীঘ্রই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে।
উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মহুয়া মৈত্র ৯৪ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। বিজেপি প্রার্থী অমৃতা রায় ৬৩ হাজার ২৪৫ এবং সিপিএম প্রার্থী এস এম সাদি ৩৬ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়েছিলেন।