নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে ফের কালিয়াচকে গুলি চলল। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থক জামালউদ্দিন শেখ। এই ঘটনায় তাঁর পরিবারের আরও দু’জন জখম হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াচক থানার কাশিনগর নীচুপাড়ার। গুলিবিদ্ধ যুবক বর্তমানে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মালদহের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ এই ঘটনায় নাজ্জুল শেখ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত বাবর আলি ও নাজ্জুল শেখের দুই ছেলের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ সুপার বলেন, এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথা থেকে কীভাবে অস্ত্র এল, সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,কয়েকদিন আগে গ্রামে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে বচসা হয়। এনিয়ে সোমবার একটি সালিশি সভাও ডাকা হয়েছিল। তবে, সেখানে বিষয়টির সমাধান হয়নি। গুলিবিদ্ধ জামালউদ্দিন পানীয় জলের ব্যবসা করেন। অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে জল চেয়ে তাঁকে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠায় অভিযুক্ত বাবর আলি। জামালউদ্দিন জল নিয়ে বাবরের বাড়িতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁর উপর চড়াও হয়। তিনি বিপদ বুঝে পালানোর চেষ্টা করলে পিছন থেকে গুলি করা হলে পিঠে লাগে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জামালউদ্দিনের পরিবারের দুই সদস্য শামীম সেখ ও সাদ্দাম সেখ। তাঁদের বন্দুকের বাঁট দিয়ে মারধর করা হয়। অভিযুক্ত বাবর সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। ঘটনার পর থেকে বাবর ও তার ছেলে হেদায়েত পলাতক। জামালউদ্দিন সহ তাঁর পরিবারের দুই সদস্যের মালদহ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
গুলিবিদ্ধ জামাল ও তাঁর পরিবারও তৃণমূল সমর্থক। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাবরও তৃণমূল কর্মী বলে দাবি জামালউদ্দিনের দাদা সাজিরউদ্দিনের। তিনি বলেন, আমরা তৃণমূল সমর্থক। বাবরও তৃণমূল করে। জল নেওয়ার নামে আমার ভাইকে বাড়িতে ডেকে পিঠে গুলি করেছে।
তবে, পুলিশ জানিয়েছে, ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বচসা ও তার জেরে গুলি চালনার ঘটনা ঘটে। এখানে পার্টির বা দলীয় কোন্দলের কোনও যোগ নেই।
তৃণমূল কংগ্রেসের মালদহ জেলার সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্রে করে এই ঘটনার সূত্রপাত। এখানে দলের কোনও বিষয় নেই। পুরোটাই ব্যক্তিগত বিবাদের জের।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে,কালিয়াচকে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করেই বোমা, গুলি চলে। এর আগে কয়েকটি ঘটনাতে তার প্রমাণ মিলেছে। এতে কয়েকজনের প্রাণ পর্যন্ত চলে গিয়েছে। প্রতিবারই এধরনের ঘটনার পর পুলিস তৎপর হয়ে ধরপাকড় শুরু করে। কিন্ত তারপর অবস্থা সেই একই থেকে যায়। বাসিন্দাদের মতে, এলাকায় প্রচুর অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। সেই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে পুলিশকে চিরুনি তল্লাশি করতে হবে। • হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ জামালউদ্দিন শেখ। - নিজস্ব চিত্র।