Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হ্যামিল্টন সাহেবের পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হওয়া কালীপুজো এবার ১০৯ বছরে

ডুয়ার্সে চা গাছের গোড়াপত্তন হয়েছিল ইংরেজ বণিকদের হাত ধরে। তখন ইংরেজ সাহেবরা অনেকে চা বাগানের ম্যানেজারও ছিলেন।

হ্যামিল্টন সাহেবের পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হওয়া কালীপুজো এবার ১০৯ বছরে
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০
Prefer us on Google

রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: ডুয়ার্সে চা গাছের গোড়াপত্তন হয়েছিল ইংরেজ বণিকদের হাত ধরে। তখন ইংরেজ সাহেবরা অনেকে চা বাগানের ম্যানেজারও ছিলেন। সেই সময় ইংরেজ বণিকদের বক্সা টি কোম্পানির অধীনে কালচিনি, মেচপাড়া, চুয়াপাড়া, রায়মাটাং, চিঞ্চুলা সহ অনেক চা বাগানই ছিল। প্রবীণদের কথায়, সম্ভবত সেই সময় মেচপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার ছিলেন ইংরেজ সাহেব হ্যামিল্টন। 

Advertisement

তখন ইংরেজ চা বণিকরা অ্যান্টনী ফিরিঙ্গির মতো অনেকেই কালীর ভক্ত ছিলেন। তার প্রমাণও মেলে হ্যামিল্টনগঞ্জের বিখ্যাত কালীপুজো ও মেলায়। স্থানীয় বাঙালিবাবুদের নিয়ে মেচপাড়া বাগানের এই হ্যামিল্টন সাহেবের পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয়েছিল আজকের এই হ্যামিল্টনগঞ্জের কালীপুজো। এই ইংরেজ সাহেবের নামেই নামকরণ হয়েছিল আজকের হ্যামিল্টনগঞ্জ স্টেশনের নাম। 
দেশে ইংরেজ শাসনকালে শুরু হওয়া এই হ্যামিল্টনগঞ্জের কালীপুজো এ বছর ১০৯ বছরে পড়ল। ইংরেজ আমলে এই হ্যামিল্টগঞ্জের কালীপুজো হতো কাঠের মন্দিরে। ২০০২ সালে মায়ের পাকা মন্দির তৈরি করা হয়। একই সময়ে মাটির মূর্তির বদলে নিকষ কালো রংয়ের কষ্ঠি পাথরের মূর্তি স্থাপন করা হয়। ৮৪ হাজার টাকায় পাথরের মূর্তি কিনে আনা হয়েছিল রাজস্থানের জয়পুর থেকে। 
জনশ্রুতি আছে যে, হ্যামিল্টনগঞ্জের কালীপুজোর রাতে ইংরেজ বণিকরা ও সাহেবরা মোরগ লড়াইয়ের আয়োজন করতেন। পুজোর পর মোরগ জবাই হতো। মোরগের মাংসের ভোজ হতো। ভোজনের পর ধামসা মাদলের দ্রিমি দ্রিমি তালে ইংরেজ বণিকরা রাতভর ঢুলুঢুলু চোখে নাচত। সেই নাচে যোগ দিতেন বাঙালিবাবু ও আদিবাসী চা শ্রমিকরাও। 
হ্যামিল্টনগঞ্জ কালীবাড়ির পুজোয় পাঁঠা বলি নিষিদ্ধ। পুজোর দিন এখানে শুধু পাঁঠার গায়ে মায়ের খর্গ ছোঁয়ানো হয়। পুজোর পর হ্যামিল্টনগঞ্জ ফুটবল মাঠে এ বছরও মেলা বসবে। হ্যামিল্টনগঞ্জ কালীবাড়ি মেলা কমিটির সভাপতি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, পুজো উপলক্ষ্যে মেলা শুরু হবে মঙ্গলবার ২১ অক্টোবর থেকে। মেলা চলবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলায় সার্কাসও থাকছে। ইতিমধ্যেই সার্কাসের তাঁবু পড়েছে মাঠে।
মন্দির কমিটির সম্পাদক বলেন, নিম্ন অসম, তরাই-ডুয়ার্স সহ প্রতিবেশী দেশ ভুটানের হাজার হাজার ভক্ত হ্যামিল্টনগঞ্জের কালীপুজোর মেলায় যোগ দেয়। মেলায় প্রতিবছর কাশ্মীরী শাল বিক্রেতারা শীতের গরম পোশাক নিয়ে হাজির হন। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এবারও মেলায় কাশ্মীরী শাল বিক্রেতারা আসছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ