সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: সরকারি নিয়ম মোতাবেক লাইসেন্সের জন্য অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া বেআইনি। কিন্তু রিসর্টের ফুড সেফটি লাইসেন্সের জন্য বাড়তি অর্থ চাওয়ার অভিযোগ উঠল কালচিনির বিডিও মিঠুন মজুমদারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার জেলাশাসকের কাছে লিখিত আকারে এই অভিযোগ করেন আলিপুরদুয়ার ডিস্ট্রিক্ট রিসর্ট অ্যান্ড হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কিঙ্কর রায়। এই ঘটনায় শোরগোল পড়েছে জেলার প্রশাসনিক মহলে। যদিও বিডিও যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিন সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে সংগঠনের প্যাডে এই লিখিত অভিযোগ নিয়ে জেলার প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যায় আসেন কিঙ্কর। কিন্তু জেলাশাসক আর বিমলা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় কিঙ্কর সেই অভিযোগ জমা করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) অশ্বিনী রায়ের কাছে। কিঙ্কর মেন্দাবাড়ি সংলগ্ন চিলাপাতায় একটি রিসর্ট চালান। গত সোমবার তিনি নিজের রিসর্টের ফুড সেফটি লাইসেন্সের জন্য পাঁচ হাজার টাকা জমা দেন। তাঁর অভিযোগ, টাকা জমা দেওয়ার পর তাঁকে বিডিও অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। এর কারণ জানতে চাওয়া হলে তখনই বিডিও তাঁর অফিসের ক্যাজুয়াল স্টাফদের বেতন দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। কিন্তু আমি তা দিতে অস্বীকার করি।
কিঙ্কর আরও বলেন, জেলার পর্যটন ব্যবসার সার্বিক উন্নয়ন ও প্রসারে রাজ্য সরকার সর্বতোভাবে সাহায্য করছে আমাদের। সেখানে ফুড সেফটি লাইসেন্সের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে যাব কেন? এটা তো একপ্রকার ঘুষেরই নামান্তর। একজন সরকারি আধিকারিকের এই আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। তাই অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ার জন্য জেলাশাসকের কাছে কালচিনির বিডিও’র বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। যদিও কালচিনির বিডিও মিঠুন মজুমদার বলেন, কিঙ্করবাবুর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর কাছে ফুড সেফটি লাইসেন্সের জন্য অতিরিক্ত কোনও অর্থ চাইনি। এরকম কোনও ঘটনাই ঘটেনি।
পাল্টা অভিযোগ করে কালচিনির বিডিও বলেন, কিঙ্করবাবু টানা পাঁচ বছর ধরে তাঁর রিসর্টের লাইসেন্স রিনিউ না করেই ব্যবসা করে যাচ্ছেন। সোমবার কাজের চাপ থাকায় ওঁকে লাইসেন্স দেওয়া যায়নি। এদিকে, অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) অশ্বিনী রায় বলেন, কোথাও একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।